নয়াদিল্লি: সিবিআইয়ের অন্দর মহলে ঘুষকান্ডে নতুন মোড়৷ এবার ব্যবসায়ী সতীশ সানাকে সিবিআই তলব৷ তার বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের এফআইআর৷ অন্যদিকে সতীশ সানা নিজের নিরাপত্তা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন৷

মাংস রফতানি ব্যবসায়ী মইন কুরেশির বিরুদ্ধে বহু কোটি টাকার অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠে৷ এরপর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিবিআই) তদন্ত শুরু করে৷ সিবিআইয়ের তদন্তে সতীশ সানা নামে এক ব্যবসায়ীর নামও উঠে আসে৷ তিনি হায়দরাবাদের বাসিন্দা এবং কুরেশির ঘনিষ্ঠ সানা৷ তাই অর্থ তছরুপের মামলায় সানা জড়িয়ে পড়েন৷ সিবিআই তদন্তকারী আধিকারিকদের সানা জানিয়েছেন, এই ঘটনার তদন্তে চার্জশিটে তাঁর নাম যাতে না আসে তার জন্য তিনি সিবিআই স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাকে দুই কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন৷

ঘুষের অভিযোগ জানাজানি হতেই শুরু হয় সিবিআইয়ের গৃহযুদ্ধ৷ সিবিআই প্রধান অলোক বর্মার নির্দেশে রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে মামলা শুরু করে খোদ সিবিআই৷ অপর দিকে আস্থানা কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি চিঠি লিখে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷ এবং পালটা অভিযোগ করেছেন বর্তমান সিবিআই প্রধান অলোক বর্মার বিরুদ্ধেই৷ আস্থানার আরও অভিযোগ, তদন্তে নিজের নাম ধামাচাপা দিতেই ব্যবসায়ী সতীশ সানা সিবিআই প্রধানকেই দুই কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন।

সিবিআইয়ের গৃহযুদ্ধের খবর প্রকাশ্যে আসতেই অসস্তিতে পরে সরকার৷ খোদ প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়৷ প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ডেকে পাঠানো হয় সিবিআই প্রধান ও স্পেশাল ডিরেক্টরকে৷ রাতারাতি ছুটিতে পাঠানো হয় দুই উচ্চপদস্থ কর্তাকে৷ ভারপ্রাপ্ত সিবিআই অধিকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয় নাগেশ্বর রাওকে৷ শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা৷ উত্তাল দেশ৷ সিবিআইয়ের অন্দর মহলের যুদ্ধ পৌঁছায় শীর্ষ আদালতে৷

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই প্রধান অলোক বর্মার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জানালেন, দু’সপ্তাহের মধ্যে সিভিসি-কে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে৷ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে পট্টনায়েকের তত্ত্বাবধানে চলবে তদন্ত৷ এই সময়ের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত সিবিআই অধিকর্তা নাগেশ্বর রাও কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না৷ বর্মা মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১২ নভেম্বর৷