স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা চক্র গ্রুপ৷ বাজার থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে এই সংস্থার বিরুদ্ধে৷ তাই সোমবার পশ্চিমবঙ্গসহ তিন রাজ্যে তল্লাশি চালায় সিবিআই৷ এই সংস্থার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাদের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানতে পেরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

সোমবার সিবিআইয়ের ১৩টি দল এই রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা, বিহারের পটনা ও ত্রিপুরার আগরতলার ১১টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায়৷ সংস্থার ডিরেক্টরদের বাড়ি ও বিভিন্ন অফিসে দিনভর তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি৷ এবং টাকা লেনদেনের কাগজপত্র সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী৷

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুন মাসে এই সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। প্রতারণা, ষড়যন্ত্র বিশ্বাসভঙ্গ সহ একাধিক ধারায় মামলা হয় সংস্থার ডিরেক্টর পার্থ চক্রবর্তীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে। চক্র গ্রুপ উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, বিহার ও ত্রিপুরার একাধিক জায়গায় অফিস খোলে৷ সারদা-রোজভ্যালির কায়দাতেই বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তোলেছে৷ মূলত কম সময়ে আমানতকারীদের বিপুল টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই টাকা তোলা হয়েছে৷

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানতে পেরেছে,এই সংস্থার কর্ণধারের সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল। তাঁরা এই চিটফান্ড সংস্থার অফিসেও আসতেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁরা কোম্পানিকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে আলাদা করে খোঁজখবর শুরু করেছেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা।

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে শৌভিক চৌধুরী নামে এক লগ্নিকারী নির্দিষ্ট সময়ে টাকা ফেরত না পেয়ে প্রথম চক্র গোষ্ঠী এবং তার কর্ণধার পার্থ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে গরফা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর পর ওই বছরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং কলকাতায় আরও ছ’টি মামলা হয় চক্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে বিষয়টি নজরে আসে সেবির। তাঁরাও চক্র গোষ্ঠীর বাজারে ছাড়া নন কনভার্টিবল রিডিমেবল ডিবেঞ্চার-কে বেআইনি ঘোষণা করে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ২০১৭ সালে সব ক’টি মামলার ভিত্তিতে সিবিআইয়ের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা তদন্তভার হাতে নেয়।