তিরুঅনন্তপুরম: কয়েকদিন আগেই এক বাঘের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর তা থেকে তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক। তবে কি এই ভাইরাস বহন করতে পারে? এবার ভারতের পাঁচটি বিড়ালের মৃত্যু থেকে বাড়ছে জল্পনা।

কেরলের একটি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ওয়ার্ডের আশেপাশে ছিল বিড়াল গুলি। আচমকাই সেই পাঁচ বিড়ালের মৃত্যু হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ বিড়ালেরই পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাদের শরীরে করোনা সংক্রমনের কোনও আভাস পাওয়া যায়নি, তবুও আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে তিরুঅনন্তপুরম ল্যাবরেটরিতে।

বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতালে তরফ থেকে জানানো হয়েছে পাঁচ বিড়ালেরই পোস্টমর্টেম হয়েছে। তাতে করোনা সংক্রমণের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। মনে করা হচ্ছে একটি ছোট জায়গার মধ্যে তাদের রাখা হয়েছিল। তাই পর্যাপ্ত বায়ুর অভাবে মৃত্যু হয়েছে ওইসব বিড়ালের।

এর মধ্যে দুটি পুরুষ বিড়াল, একটি মেয়ে বিড়াল ও তার দুই সন্তান রয়েছে। প্রয়োজন পড়লে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিছু অংশ হাই সিকিউরিটি অ্যানিমাল ডিজিজ লাবেও পাঠানো হবে। গত ২৮ মার্চ হাসপাতালে করোনা সংক্রান্ত ওয়ার্ড থেকে তাদেরকে ধরা হয়েছিল।

এরপর তাদের একটি জায়গায় রাখা হয়। ঠিক দুদিনের মাথায় মেয়ে বিড়ালটির মৃত্যু হয়। পরে একে একে বাকিদেরও মৃত্যু হয়।

সম্প্রতি, নিউ ইয়র্কের ব্রংকস চিড়িয়াখানায় বাঘের শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে। একাধিক বাঘ ও সিংহকে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা যায়। প্রত্যেকেরই শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরপর ওই বাঘটিকে পরীক্ষা করা হয়। চার বছর বয়সী মালয়েশিয়ান বাঘটির নাম নাদিয়া।

শুধু এই বাঘটিই নয়, বাঘটির বোন সহ আরও দুটি বাঘ ও তিনটি আফ্রিকার সিংহের শুকনো কাশি হতে দেখা যায়। যেহেতু পশুদের অজ্ঞান করে পরীক্ষা করতে হয়, তাই সব পশুকে পরীক্ষা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশু চিকিৎসকরা।

চিড়িয়াখানার এক কর্মীর শরীরব থেকে ওই ভাইরাস পশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আপাতত ওই বাঘগুলিকে আলাদা করে রাখা হয়েছে, যাতে বাকি পশুদের শরীরে ভাইরাস না ছড়িয়ে পড়ে। এমনিতে গত ১৬ মার্চ থেকে ওই চিড়িয়াখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।