মোরাদাবাদ: একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে ফের একবার প্রকাশ্যে এল জাতিভেদের রগরগে উদাহরণ। দলিতদের চুল-দাড়ি কাটতে অস্বীকার করলেন মুসলিম নাপিত। ঘটনায় অভিযোগ জানিয়ে পুলিশ থেকে শুরু করে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলেন দলিত সম্প্রদায়ের মানুষেরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার ভোজপুর থানার অন্তর্গত পিপালসানা গ্রামে। অভিযোগের মীমাংসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকরা।

অভিযোগ পাওয়ার পর একটি তদন্তকারী দল তৈরি করেছেন মোরাদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার অমিত পাঠক। রিপোর্ট জমা পড়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানা গিয়েছে। এদিকে কয়েকজন মুসলিম নাপিতদের ডেকে এবিষয়ে জেরা করা হয়েছে। যার জেরে সমস্ত দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন মোরাদাবাদের অন্যান্য নাপিতরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পিপালসানা গ্রামে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি। তবে কিছু দলিত সম্প্রদায়ের মানুষও সেখানে বাস করেন। তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের চুল-দাড়ি কাটলেও তাঁদের পরিষেবা দিতে সরাসরি না করে দিয়েছেন গ্রামের মুসলিম নাপিতরা। এমনকি তাদের দোকানে ঢুকতে বাধা দেন বলে অভিযোগ।

গ্রামের দলিত সম্প্রদায়ের বয়োজ্যেষ্ঠদের মতে, জাতপাত নিয়ে বৈষম্যের জেরে দীর্ঘদিন আমাদের ভুগতে হয়েছে। কিন্তু, আমরা চাই আগামী প্রজন্ম যেন এই সমস্যার মুখোমুখি না হয়। জাতপাতের এই লড়াই যেন শেষ হয়।

কল্যাণ নামে গ্রামের এক যুবক বলেন, “ গ্রামের ওই মুসলিম নাপিতরা আমাদের ঘৃণা করে। তাই দোকানে আমাদের দেখলে ওরা দোকান বন্ধ করে দেয়। ফলে আমাদের সন্তানদের বিয়েও হয় না, কেউ মেয়ে দিতে চায় না বলে। নিজেদের গ্রামে চুল কাটাতে পারি না বলে এলাকার মানুষ আমাদের নিয়ে ব্যঙ্গ করে।”

অন্যদিকে, নৌশাদ নামে গ্রামের এক মুসলিম নাপিত বলেন, ওই দলিতরা কখনও তাদের কাছে চুল-দাড়ি কাটাতে আসেননি। তিনি বলেন, “দলিতরা কখনও আমাদের দোকানে আসে না। চুল-দাড়ি কাটাতে ওরা সবাই ভোজপুরে একজন দলিতের দোকানেই যায়। কিন্তু, এখন ওরা আমাদের এখানে চুল কাটাতে চাইছে। ওদের চুল কাটার পর তোয়ালে নোংরা হয়ে যাবে। ফলে কোনও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ আর আমাদের দোকানে আসবে না। তাই দলিতরা যদি এখানে চুল কাটাতে চায় তাহলে নিজেদের সম্প্রদায়ের কাউকে দিয়ে দোকান চালু করুক।”