থানে: মহিলাদের নিরাপত্তা বারবারই প্রশ্নের সম্মুখীন৷ কলকাতা হোক বা মুম্বই, বারবারই গুন্ডাবাহিনীর হাতে আক্রান্ত হয়েছে মহিলারা৷ অভিযোগও জমা পড়েছে ভুরি ভুরি৷ আবার পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও এসেছে প্রকাশ্যে৷ কলকাতায় রাতের শহরে প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া উষশী সেনগুপ্তের হেনস্তার খবরের পরে পরেই এবার দেব ডি খ্যাত বলিউড অভিনেত্রী মাহি গিল সংবাদ শিরোনামে৷ কর্মক্ষেত্রে এবার গুন্ডাবাহিনীর হাতে আক্রান্ত হলেন অভিনেত্রী৷

সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর খবর অনুযায়ী, ফিক্সার নামের একটি ওয়েব সিরিজের জন্য কাজ করছিলেন মাহি গিল৷ গতকাল কাস্ট-ক্রু-সহের উপস্থিতিতেই চলছিল শ্যুটিং৷ আর তখনই গুন্ডাবাহিনীর হাতে আক্রান্ত হয় তারা৷ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় সাত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ আজ, বৃহস্পতিবার ওই ওয়েব সিরিজের টিম মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাবে বলে জানা গিয়েছে৷

এদিকে ১৭জুন, কলকাতায় রাতের অন্ধকারে হেনস্তার শিকার প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া৷ ঘটনার পরে উষসী তার সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা৷ তিনি জানান, সোমবার রাত ১২টা নাগাদ একটি ক্যাবে চেপে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁরই এক সহকর্মী। এক্সাইড মোড় থেকে এলগিনের দিকে গাড়ি বাঁক নিতেই তাঁদের গাড়িকে অনুসরণ করা শুরু করে কয়েক জন বাইক আরোহী। তারপর আচমকাই তাঁদের গাড়ির উপর চড়াও হয় জনা কয়েক তারা। প্রথমে চালককে নামিয়ে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করে তারা। বাধা দিলে কটূক্তি করে উষসীকেও। উষসীর কথায়, ‘‘আমাদের চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। শুরুতে জনা চার-পাঁচ যুবক থাকলেও হঠাৎই লক্ষ্য করি আরও কয়েকজন চলে আসে তাদের সঙ্গে। প্রায় ১৫ জনের মতো ছিল।’’ উষসী জানিয়েছেন, গোটা ঘটনাটাই তিনি ভিডিও রেকর্ড করেন।

উষসীর দাবি, ঘটনাস্থলের কাছেই ডিউটিতে ছিলেন দুই পুলিশ কর্তা। সাহায্য চাইলে তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, “আমাদের কিছু করার নেই। এই বিষয়টা আমাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।”তিনি বলেন, ওটা ভবানীপুর থানার ঘটনা। আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করি, আপনি চলুন, না হলে ড্রাইভারকে মেরে ফেলবে। উনি গিয়ে ওদের বলেন, ঝামেলা করছ কেন? ওরা অফিসারকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। সব কিছু মিটে যাওয়ার পর ভবানীপুর থানা থেকে দু’জন অফিসার গিয়েছিলেন। আমি ভেবেছিলাম আজ সকালে পুলিশে জানাব।’’

ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুলিশ৷ ডিসি সাউথের নেতৃত্বে গঠিত হয় কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি৷ লালবাজার সূত্রে খবর,তদন্তে নেমেই যে রিপোর্ট পাওয়া যায় তার ভিত্তিতেই একজনকে সাসপেন্ড ও দু’জনকে শোকজ করা হয়েছে৷ সেই সময় যাঁরা যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের ভুমিকা খতিয়ে দেখেন ওই তদন্ত কমিটি। শুধু তাই নয় সিসিটিভির ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়। এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের যান তদন্তকারী দল৷ ঘটনার রাতে পুলিশের তরফে কোনও গাফিলতি ছিল কিনা তা জানতেই গঠন করা হয়েছিল তদন্ত কমিটি।