মালদহ: ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু, আবেদন করেও পায়নি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এমনই অভিযোগ। পাশে এসে দাঁড়ায়নি কোন জনপ্রতিনিধি। আর যার জেরে শুরু হয়েছে মালদহে রাজনৈতিক চাপান উতোর।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড থাকা সত্ত্বেও মিলছে না চিকিৎসা পরিষেবা। এমনই অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করার ঘটনায় ছড়িয়েছিল চাঞ্চল্য। এবার এসে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর পরিবারের তরফে অভিযোগ।

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার পিপলা গ্রামের বাসিন্দা বিষ্ণুদাস। করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের জেরে হারিয়েছেন কাজ। ভিন রাজ্য থেকে গ্রামে ফিরে এসে এলাকাতেই কোন মতে কাজ জুটিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্ত্রী এবং শিশুপুত্রের মুখে এই দুঃসময়ে খাবার তুলে দিচ্ছিলেন এই দুঃসময়ে আচমকা নাবালক ছেলের ডান কানে ধরা পড়ে ক্যান্সার।

অর্থাভাবের মধ্যে কী ভাবে চিকিৎসা করাবেন ভেবেই আকুল পরিযায়ী শ্রমিক বিষ্ণু দাস জানেন না। অর্থ সাহায্যের জন্য গ্রামবাসীদের দরজায় দরজায় ঘুরছেন। কিছু সাহায্য মিলেছে। কিন্তু সে আর কতটুকু। কয়জন স্বহৃদয় ব্যক্তিও কিছু সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। কিন্তু তাও ডাক্তার দেখাতেই খরচ হয়ে গিয়েছে। এখন প্রয়োজন অপারেশনের জন্য টাকা। কিন্তু কিভাবে টাকা যোগাড় হবে এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর মিলছে না।

অভিযোগ, স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের আবেদন করেও মেলেনি সুবিধা। এক্ষেত্রে জন-প্রতিনিধি, নেতা বা অন্য কেউ এখনও পরিবারটির সাহায্যে এগিয়ে আসেননি কেন তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। অসহায় এই পরিবারের। আর যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। ঘটনায় আলোড়ন মালদহে।

বিষ্ণু ভিন রাজ্যে রাজমিস্ত্রির সঙ্গে যোগানদারের কাজ করেন। প্রায় একমাস ধরে ছেলের চিকিৎসা করানোর আশায় বাড়িতে বসে রয়েছে। ছেলে শুভ দাস,বয়স মাত্র ৩ বছর, প্রায় তিন মাস ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। প্রাথমিক ভাবে মালদা, হরিশ্চন্দ্রপুর,চাঁচল,কাটিয়ার ও রায়গঞ্জে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসা করানো হলেও ডাক্তারবাবুরা তাকে রেডিয়েশন থেরাপির পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত অপারেশন করার পরামর্শ দেন।

অপারেশন করতে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে।অন্যান্য খরচও রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা লাগবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার চিকিৎসার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, তা বুঝে উঠতে পারছে না। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকায় কোনো নার্সিং হোমেও চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি।

অভিযোগ, রাজ্য সরকার দুয়ারে সরকার প্রকল্প চালু করেছে যাতে প্রত্যেকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পায়।সেখানে ক্যান্সার আক্রান্ত এই শিশু আবেদন করার পরেও পায়নি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড। এই ঘটনায় তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস, সিপিআইএম ও বিজেপি।

ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর বাবা বিষ্ণু দাস বলেন,আমার সামর্থ্য নেই। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর আবেদন করেছে কিন্তু এখনো পাইনি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে করজোড়ে আবেদন করছি। না তো আমার ছেলেটা বাঁচবে না।”

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মানিক দাস বলেন,”স্বাস্থ্য সাথী কার্ড একটা প্রসেসের মধ্যে দিয়ে হয়। শিশুটির কথা আমি শুনেছি। ব্যক্তিগতভাবে তাদের সাহায্য করেছি।অবশ্যই চেষ্টা করব তাদের পাশে থাকার এবং তারা যাতে দ্রুত সাস্থ্য সাথী কার্ড পেয়ে যায় সেদিকে দেখব।

এর আগে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে স্বপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেছেন মালদহের হরিশ্চন্দ্র পুর এলাকার বাসিন্দা পিঙ্কি দাস। তিনি জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বারোডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।