নয়াদিল্লি: দেশদ্রোহিতার অভিযোগে এবার দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী পড়ুয়া শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল আরও তিন রাজ্যের পুলিশ। শারজিলের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর ও দিল্লি পুলিশের। এর আগে অসম ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশও জেএনইউ-য়ের এই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে একই অভিযোগে মামলা দায়ের করে।

দেশদ্রোহিতার অভিযোগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আন্দোলনকারী শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের। একই অভিযোগে অসম ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পর শারজিলের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের হল অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর ও দিল্লিতেও। দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত শারজিল ইমামকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশের কয়েকটি দল রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে। শারদিল লুকিয়ে থাকতে পারে সম্ভাব্য এমন একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দ্রুত শারজিলের খোঁজ মিলবে বলে আশাবাদী পুলিশকর্তারা।

ইতিমধ্যেই বিহারে জেএনইউ-এর পড়ুয়া শারজিলের খোঁজে দল পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। রবিবার তাঁর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে হানা দেয় পুলিশ। শারজিলের আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ।

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্র শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সিএএ ও এনআরসির বিরোধিতায় শারজিল উসকানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন বলে দাবি পুলিশের। গত ১৩ ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজ ভাষণের পর সোশাল মিডিয়াতেও কেন্দ্র -বিরোধিতায় উসকানিমূলক ভাষণ দেন বলে অভিযোগ। শারজিলের সেই মন্তব্যই দেশদ্রোহিতার সামিল বলে মনে করছে পুলিশ।

আগেই সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়োর ভিত্তিতে শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করার অভিযোগ এনে মামলা করে অসম সরকার। সেই ভিডিওটিতে শারজিলকে বলতে দেখা যায়, ‘অসমকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করা উচিত। অসমে মুসলমান ও বাঙালিদের খুন করা হচ্ছে। অসমের বাংলাভাষীদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে। তাই রেললাইন বিচ্ছিন্ন করে ভারত থেকে অসমকে আলাদা করতে হবে।’
শারজিলের এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে অসমের সর্বানন্দ সোনওয়ালের সরকার। উসকানি ও প্ররোচনামূলক মন্তব্যের অভিযোগ আনা হয় শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে। দেশদ্রোহিতার মামলা রুজু করে অসমের বিজেপি সরকার।

শারজিল জেএনইউ থেকে আধুনিক ইতিহাসে পিএইচডি করছেন। বম্বে আইআইটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক তিনি। দিল্লির শাহিনবাগের আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শারজিল ইমাম।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ