কলকাতা: OTP পরে এবার QR কোড স্ক্যান করে সাইবার প্রতারণা৷ খাস কলকাতায় এই ঘটনা ঘটেছে৷ তদন্তে পুলিশ (police)৷

বেহালার পর্ণশ্রীর বাসিন্দা মানস দাশগুপ্ত। এক সময় সেন্ট্রাল আইবি-তে কাজ করতেন। প্রতারকরা তাকে কিউআর কোড পাঠিয়ে স্ক্যান করার জন্য বলেন৷ ওই কিউআর কোড স্ক্যান করতেই তাঁর পেনশন অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক হাজার টাকা গায়েব হয়ে যায়৷ পর্ণশ্রী থানা ও সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রাক্তন পুলিশকর্মী৷

এর আগেও খাস কলকাতায় এই ঘটনা ঘটেছে৷ ভারতীয় সেনাবাহিনীর নামে ডিজিটাল বারকোড স্ক্যান করে প্রতারণা৷ জিনিসপত্র অর্ডার করে টাকা দেওয়ার নামে উল্টে ব্যবসায়ীদের অ্যাকাউন্ট থেকেই হাজার হাজার টাকা খোয়া যায়৷

কুমোরটুলির ছোট ব্যবসায়ী শৌভিক কর পরপর ২ কিস্তিতে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা খোয়ান৷ এছাড়া যাদবপুরের বিক্রমগড়ের বাসিন্দা চিত্রদীপ চক্রবর্তীও পরপর ৫ কিস্তিতেই ৭০ হাজার টাকা খোয়ান৷ এভাবে আরও অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন বলে খবর৷

কুমোরটুলির শৌভিক জানিয়েছিলেন,একদিন রাতে একজন ফোন করে ৫০০ পিস এলিডি বাল্বের অর্ডার দেন৷ নিজেকে আর্মি অফিসার বলে পরিচয় দেন৷ বলেন, হলদিরামের উল্টো দিকে দমদমের আর্মি ক্যাম্প থেকে বলছি৷ এমনকি আর্মি পোশাকে তার ছবি, ভোটার কার্ড ও আর্মির পরিচয়পত্র শৌভিককে পাঠান ওই ক্রেতা৷

আমি তখন তাকে গুগুল পে করতে বলি৷ তারপর হোয়াটস অ্যাপ কল করে তিনি একটি বারকোড পাঠিয়ে স্ক্যান করতে বলেন৷ প্রথমে ৫ টাকা পাঠান৷ আমি রিসিভ করি৷ পরে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা পাঠালে রিসিভ করলে সঙ্গে সঙ্গে আমার অ্যাকাউন্ট থেকে ১৪,৫০০ টাকা ডেবিট হয়ে যায়৷

আমি ওই ক্রেতার কাছে জানতে চাই,এটা কেন হল৷ তখন তিনি বলেন,আমার এখানে পেনডিং দেখাচ্ছে৷ ফের রিসিপ করোন৷ ফের রিসিপ করতেই আমার অ্যাকাউন্টে থাকা বাকি ২,০০০ টাকাও ডেবিট হয়ে যায়৷ টাকা ফেরত চাইলে বলেন, তোমার যে সব বন্ধুরা গুগোল পে ব্যবহার তাদের ফোন নম্বর দাও৷ তখন আমি বুঝতে পারি যে কোনও প্রতারকের পাল্লায় পড়েছি৷ আর্মির পরিচয় দিয়ে গেট পাসের জন্য আগেই আমার ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড ও ছবি নিয়ে নিয়েছেন৷

এরপর আমি, শ্যামপুকুর থানা৷ ও লালবাজারে অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড শাখায় অভিযোগ করি৷ সেখানে গিয়ে দেখি,আমার আরও অনেকে এসেছেন অভিযোগ করতে৷ তারাও আমার মত একই কায়দায় প্রতারিত হয়েছেন৷

একই কায়দায় ১৪ অগস্ট যাদবপুরের একটি মিষ্টির দোকানে ২০০ কেজি মিষ্টির অর্ডার দেন এক ব্যক্তি৷ ফোনে তিনি বলেন,১৫ অগাস্ট দমদমের সেনা ক্যাম্পে ওই মিষ্টির ডেলিভারি দিতে হবে। অর্ডারের পাশাপাশি হোয়াটঅ্যাপে নিজের সেনা আইডি কার্ড, সেনাবাহিনীর নাম ও অ্যাকউন্টের বিস্তারিত পাঠান ওই ক্রেতা৷

এরপর অগ্রিম ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানান দোকানের মালিক৷ শৌভিকের মত এই ব্যবসায়ীকেও বলেন অনলাইন পেমেন্ট করবেন৷ মিষ্টির ব্যবসায়ীর নেট ব্যাঙ্কিং সুবিধা না থাকায় তাঁর পরিচিত চিত্রদীপ চক্রবর্তীর মারফত টাকা লেনদেনের ব্যবস্থা করেন৷ চিত্রদীপের দাবি,হোয়াটসঅ্যাপে তাঁকে ডিজিটাল কিছু বারকোড পাঠানো হয়।

ওই বারকোড স্ক্যান করতে বলা হয়। চারবার এইভাবে বারকোড স্ক্যান করতে বলার পর সন্দেহ হতেই ফোন কেটে দেয় চিত্রদীপ। অননলাইনে অ্যাকাউন্ট চেক করতে গিয়ে দেখেন চারবারে মোট ৭০হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর তারা যাদবপুর থানায় অভিযোগ করেন৷

QR কোড কি-

কিউআর কোড, (কুইক রেসপন্স কোড থেকে সংক্ষিপ্ত) হলো সর্বপ্রথম জাপানে স্বয়ংচালিত শিল্পের জন্য পরিকল্পিত ম্যাট্রিক্স বারকোড (বা দ্বিমাত্রিক বারকোড) ধরনের একটি ট্রেডমার্ক। বারকোড হল মেশিনে পাঠযোগ্য অপটিক্যাল লেবেল যা এতে সংযুক্ত উপাত্ত সম্পর্কে তথ্য ধারণ করে থাকে। একটি কিউআর কোড দক্ষতার সাথে তথ্য ধারণ করার জন্য চারটি মানদন্ডে (নিউমেরিক, আলফানিউমেরিক, বাইট/বাইনারি, এবং কাঞ্জি) এনকোডিং মোড ব্যবহার করে, যেখানে এক্সটেনশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।