হাওড়া: মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা৷ শনিবার গভীর রাতে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর উলুবেড়িয়ার কাছে এই ঘটনা ঘটে৷ বড় কোনও বিপদ না ঘটলেও আহত হয়েছেন কমবেশি সকলেই৷ ব্রেথালাইজারে ধরা পড়েছে গাড়ির চালক মদ্যপ ছিলেন৷ যদিও চালকের দাবি, যে পরিস্থিতিতেই তিনি থাকুন না কেন গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণেই ছিল৷ ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িতে মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন৷ তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা, বাকি চারজন পুরুষ৷ পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি কোলাঘাট থেকে হুগলির দিকে যাচ্ছিল৷ কুশবেড়িয়া মনসাতলার জাতীয় সড়কের উপর আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন গাড়ির চালক৷ ধাক্কা মারে সামনের একটি ডিভাইডারে৷

পুলিশ সূত্রে খবর, ব্রেথ অ্যানালাইজার যন্ত্রে প্রমাণ মিলেছে চালক মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন৷ এদিকে পুলিশের কাছে চালক বারবার দাবি করেছেন গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে ছিল৷ উল্টে তিনি এই দুর্ঘটনায় জন্য কাঠগড়ায় তোলেন একটি লরিকে৷ তাঁর দাবি, লরিটির থেকে বাঁচতে গিয়েই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে৷

সূত্রের খবর, গাড়ির ভিতরে থাকা এক যাত্রী নাকি এরকম দাবিও করেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেই থাকে৷ পুলিশ তদন্ত করে দেখবে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রের মধ্যে ছিল কী না৷ কিন্তু মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোটাই আইন বহির্ভূত৷ সেখানে কেউ এমন যুক্তি কীভাবে দিতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ৷

কিছুদিন আগেই হাওড়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে কলকাতার ব্যবসায়ী শিবাজি রায়ের গাড়ি৷ ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি৷ হুগলির গুড়াপের কাছে একটি ধাবাতে খেতে গিয়েছিলেন শিবাজীবাবু৷ সঙ্গে তাঁর বন্ধুরা৷ পাকুড়িয়া ব্রিজের উপর আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তাঁর বহুমূল্যের ফেরারি৷ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি ধাক্কা মারে উড়ালপুলের ডিভাইডারে৷ দুমড়ে মুচড়ে যায় গাড়ি৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার বেসরকারি এক হাসপাতালে আনা হলেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে৷

অসচেতনতার জেরে পথদুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ বোলপুর থেকে বারাসাত৷ কলকাতা থেকে কোচবিহার৷ সর্বত্রই এক ছবি৷ বারবার প্রশাসনের তরফে যাত্রীদের সচেতন করা হলেও সমাজের একটা বড় অংশের কাছে সেই বার্তা ‘গুরুত্বহীন’ই থাকছে৷ ফলে রাজ্যজুড়ে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচি কিংবা সাড়ম্বরে পথনিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপন কতটা যৌক্তিকতা বহন করছে এই ধরনের ঘটনা কিন্তু সে প্রশ্নই উষ্কে দেয়৷