সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : আল্লা না হয় ব্রহ্মা ক্যানিং স্ট্রিটের ফুটপাথে ডালা নিয়ে বসা ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ এখন এঁদের হাতেই। বাগরি মার্কেটের ধার বরাবর লাইন দিয়ে বসে থাকা ব্যবসায়ীরা এমনটাই জানাচ্ছেন। ডালা থেকেই আগুন লেগেছিল বাগরি মার্কেটে। সে আগুন এখনও নেভেনি।

মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় তাই নির্দেশ দিয়েছেন মার্কেটের সামনেই আর ডালা নিয়ে বসা যাবে না। এতেই বাগরি মার্কেটের ডালা ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা বেড়েছে।

মেয়রের নির্দেশ শুধু ক্যানিং স্ট্রিটের নয় সমগ্র কলকাতার ডালায় মালপত্র সাজিয়ে বসা ব্যবসায়ীদের জন্য অশনি সঙ্কেত। কিন্তু কপালে চিন্তার ভাঁজ বেশী যেন ক্যানিং স্ট্রিটের ডালা ব্যবসায়ীদের। সোমবার থেকে বুধবার, তিনদিন হয়ে গেল ডালা নিয়ে বসতে পারছেন না বাগরি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।

আগুন লাগার পর থেকেই এলাকার সমস্ত দোকানই বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। ফলে তিন দিন ধরে এমনিই ব্যবসা বন্ধ। আগুন আজ না হয় কাল নিভে যাবে। কিন্তু যে ব্যবসা বছরের পর বছর সংসার চালিয়েছে সেই ব্যবসা যদি স্থানচ্যুত হয় তাহলে কি হবে? কিভাবেই বা দিন চলবে?

মহম্মদ সালাউদ্দিন বন্ধ ডালা নিয়ে বসেছিলেন বাগরি মার্কেটের পাশের বাড়ির ফুটপাথে। বললেন, “আল্লাহ জানেন কি হবে। কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না। এখান থেকে উঠে গিয়ে অন্য জায়গাতে গেলেও লাভ হবে না। সেখান থেকেও তুলে দিতে পারে। আল্লাহ নিশ্চয় কোনও পথ বাতলে দেবেন।”

রবি সামন্ত বসে বসে গল্প করছিলেন সহ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। বললেন, “কোনও উপায় তো খুঁজে পাচ্ছি না। দেখি কি করা যায়। এখন তো বসেই আছি।” কিছুক্ষণ আনমনা থেকে বললেন, “ডালার জন্য আগুন লাগেনি। কেন আমাদের উপর কোপ বসাচ্ছে জানি না। ভগবানই জানেন আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করে আছে।”

মহম্মদ আয়ুবের শোলার বলের ব্যবসা। গত ৩০-৩৫ বছর এই ব্যবসাই সংসার টেনেছে। মহম্মদ আয়ুবের কথায়, “বাড়ির মালিক আগুন বাঁচানোর ব্যবস্থা করল না আর দোষী হয়ে গেলাম আমরা। সরকার কোথায় আমাদের দোষ দেখতে পেল জানি না। এখন আল্লাহ মেহেরবান হলে তবে কিছু হতে পারে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের তো দোকান নেওয়ার ক্ষমতা নেই। দেখি কি হয়।”