সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বিয়ের কার্ড না কি দুশো বছরের কোনও পুরনো সংবাদপত্র! সংবাদপত্রই যদি ধরে নেওয়া হয় তাহলে প্রত্যেক পাতায় শুধুই বিয়ের খবর কেন ? এসব নানা প্রশ্নবোধক , বিস্ময়সূচক ভাবনা আসতেই পারে এক ডাক্তারবাবুর ডিজাইন করা বিবাহের কার্ড দেখলে। চমকে ভরতি নিমন্ত্রনপত্রের প্রথম থেকে শেষ।

চমক দেওয়া বিয়ের কার্ড আসলে মেয়ের প্রতি বাবার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। মেয়ের বিয়েকে নিমন্ত্রিতদের প্রত্যেকের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছেন আরজি কর হাসপাতালের ক্যান্সার চিকিৎসক শঙ্করকুমার নাথ। ব্যস্ত সময়ের মাঝেই মাস ছয়েকের প্রচেষ্টায় বানিয়ে ফেলেছেন সংবাদপত্রের মত এক বিবাহের নিমন্ত্রণ পত্র। যেহেতু বিয়ের কার্ড তাই সংবাদপত্রের প্রত্যেকটি খবরই বিবাহ সংক্রান্ত। উনবিংশ শতক থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত যতরকম ছকভাঙা বিয়ের খবর ছাপা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদপত্রে তারই কাটআউট দিয়ে ডাক্তারবাবু বানিয়ে ফেলেছেন মেয়ে সৃজা’র বিয়ের কার্ড।

নিমন্ত্রনপত্রসহ প্রকাশিত সংবাদপত্রের নাম ‘বিবাহ সমাচার’। এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছেন ডাঃ শঙ্কর নাথ। একাধারে যেমন মেয়ের বিয়ের খবর দিয়েছেন নিমন্ত্রিতদের অপরদিকে বিবাহ সমাচারে বিভিন্ন বিয়ের খবরাখবর তিনি দিয়েছেন যা সমাজের অন্যন্য বিয়ের থেকে আলাদা। সঙ্গে প্রথম পাতায় রয়েছে পাত্র পাত্রীর পরিচয় ও বিবাহবাসরের স্থান, তারিখ এবং পথনির্দেশিকা।

দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পাতা থেকে শুরু খবরের বহর। এই খবরের তালিকায় উনিশ শতকে বামাবোধীনি পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন ধরনের বিবাহের খবর যেমন রয়েছে তেমনই রয়েছে সমাচার দর্পণ, সংবাদ প্রভাকর , সম্বাদ ভাস্কর এবং সংবাদ পূর্ণচন্দ্রোদর পত্রিকার বিবাহ এবং বিজ্ঞাপণ। বিবাহ সমাচারের চতুর্থ এবং শেষ পাতায় রয়েছে কল্যাণীয়া পাত্রী শ্রীজা’র ছোটবেলার বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। সেদিনের ছোট্ট মেয়েটা বাবার বাড়ি ছেড়ে অন্যবাড়িতে চলে যাবে। তাই স্মৃতিটুকু থাক এই ভেবেই হয়তো শেষ পৃষ্ঠার আদ্যপান্ত ভরতি করেছেন মেয়ের ছবি দিয়ে।

অভিনব ভাবনা প্রসঙ্গে ডাঃ শঙ্কর নাথ বলেন , “আমি আমার ছেলের বিয়ের সময়েও যে নিমন্ত্রণ পত্র বানিয়েছিলাম সেটা নিমন্ত্রিতদের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে বইয়ের মতো বানিয়েছিলাম। মেয়েরটাও তাই করলাম। খবরগুলো পড়লেই বোঝা যাবে খবরগুলি কতটা অন্যধরনের। এর মধ্যে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছেলে সেই ঐতিহাসিক বিধবা বিবাহের খবরও রয়েছে।” চিকিৎসকের কথায়, “নিমন্ত্রণরক্ষার পর নিমন্ত্রণ পত্রের স্থান হয় ডাস্টবিনে। সেটা আমি হতে দিতে চাই না। আমার মেয়ের বিয়ে সবাই মনে রাখবে। সাজিয়ে রাখবে ওঁর বিয়ের নিমন্ত্রণ পত্র। একদিক দিকে আমি শিল্পের সম্মানরক্ষার চেষ্টা করেছি।” ডাঃ শঙ্কর নাথ কার্ড বানাতে ছয় মাস ধরে নিয়েছে গুগলের সাহায্য তেমনই নিয়েছেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সাহায্য।

সৃজা’র সঙ্গে পাত্র অরিত্রের চার হাত এক হবে ১৭ জানুয়ারি ২০১৯। তার আগে জেনে নিন বিশেষ বিশেষ ‘বিবাহ সমাচার’।