অটোয়া: ২০২০ সালে বিপদ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। বছর শেষ হতে এখনও চার মাস বাকি,তবুও স্বস্তি নেই। একে করোনা অতিমারীর থাবা তার উপর রয়েছে, ঝড়,জল-বন্যা,ভূমিকম্প আরও কত কী! এই তালিকায় এবার নয়া সংযোজন তুষার ধস। পৃথিবীর উওরাঞ্চলে ক্রমশ গলছে বরফ। আসতে চলেছে আরও এক নতুন বিপর্যয়।

জানা গিয়েছে, করোনা আবহেই মানুষ তথা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে হিমবাহের গলন। মানুষের অনৈতিক কাজকর্মকের ফলে তাপমাত্রা বাড়ছে পৃথিবীর। যারফলে গলতে শুরু করেছে মেরু অঞ্চলের বরফ। শুধু মেরু অঞ্চলই নয়। বরফ গলছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বরফাবৃত অঞ্চলগুলির।

এতদিন এই বিষয় গুলিকে খুব একটা আমল না দিলেও কানাডার উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম নুনাভাটের বরফ গলতে শুরু করায় এবার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ভূবিজ্ঞানীদের। জানা গিয়েছে, চলতি বছর কানাডার উওরাঞ্চলের বৃহত্তম নুনাভাটের এলেমসেমি দ্বীপে মিলেন আইস শেল্ফটি গলতে শুরু করেছে।

এমনকি এটি ক্রমশ সমুদ্রের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বলে খবর জানা গিয়েছে। ধীরে,ধীরে গলতে শুরু করা বৃহদাকার এই হিমবাহটি গত ৩০ ও ৩১ জুলাই পর্যন্ত এর ৪৩ শতাংশ অংশ সমুদ্রের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। বরফের এই বিশাল শীটটি আর্টিক সাগরে প্রবাহিত হয়ে আরও দুটি বড় অংশে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে।

আর এই পুরো শেলিং ইভেন্ট তথা হিমবাহ গলনের যে শব্দ তা দেখতে এবং শুনতে বৈজ্ঞানিক কোপার্নিকাস সেন্টিনেল উপগ্রহের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। হিমবাহের যে অংশটি ভেঙেছিল তা প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এবং ম্যানহাটনের চেয়ে ৬০ বর্গকিলোমিটার বড়।

কানাডার আইস সার্ভিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সাধারণ তাপমাত্রা, উপকূলীয় বাতাস এবং আইস শেল্ফের সামনে থাকা খোলা জলই হল এটি ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ। ওয়াটার অ্যান্ড আইস রিসার্চ ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সর্তকবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে যে, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে যেহারে কানাডার উত্তরাঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে তাতে অবশিষ্ট মিলেন আইস শেল্ফেটি পুরোপুরি গলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রবল।

ফলে আগামী সপ্তাহ গুলিতে কি ঘটতে চলেছে সেই দিকেই তাকিয়ে সবাই। শুধু তাই নয়, এই ধসের ফলে বরফের চাঁইয়ের উপর একটি গবেষণার সাইট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এই বিষয়ে কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ডেরেক মুয়েলার তাঁর একটি ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন, “আমরা খুবই ভাগ্যবান যে তুষার ধস নামার সময় আমরা ওই বরফের চাঁইয়ের উপর ছিলাম না। যারফলে এযাত্রায় বড় বাঁচা বেঁচে গিয়েছি। তবে গবেষণার কাজে ব্যবহৃত আমাদের সমস্ত যন্ত্রপাতি তুষারধসে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”

জানা গিয়েছে অধ্যাপক মুয়েলার এবং তাঁর দলবল বহুবার মিলনের এই আইস শেল্ফ ঘুরে দেখেছেন। তবে এবছর করোনা মহামারীজনিত কারণে তাঁদের ভ্রমণ বাতিল হয়েছে। বরফের তাকটি ভেঙে যাওয়ার কারণে আর্টিকের এপিসেল্ফ হ্রদটি তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এই এপিসেল্ফ হ্রদটি হল চারিদিকে বরফে ঘেরা মিষ্টি জলের একটি হ্রদ। জানা গিয়েছে, এ জাতীয় বরফগুলি সমুদ্রের জলে গলে যাওয়া বরফ এবং জলের প্রবাহকে ধীর করে দিয়ে বাঁধের মতো কাজ করে। বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থানকে সীমাবদ্ধ করতে সহায়তা করে। এই বড় আকারের ক্যালভিং ইভেন্টগুলি উত্তর মহাসাগরগুলিতে ভাসমান মূলত বড় আইসবার্গগুলি তৈরি করে এবং জাহাজ চলাচলের জন্যও বিপত্তি তৈরি করতে পারে।

এদিকে আর্কটিক বিশ্বজুড়ে যে কোনও অঞ্চলের তুলনায় আরও দ্রুতহারে উষ্ণায়নের গতিতে অব্যাহত রেখেছে। যারফলে এই। অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করায় যথেষ্ট শঙ্কিত বিশেষজ্ঞ মহল।

তবে চলতি বছর এই প্রথম নয়! এর আগেও কানাডিয়ান আর্টিক তার গুরুত্বপূর্ণ বরফের বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে। এবছর গ্রীষ্মের শুরুতে কানাডার সেন্ট প্যাট্রিক বেয়ের দুটি আইস ক্যাপ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। এই দুটি আইস ক্যাপ নুনাভাটের মিল্নি আইস শেল্ফের মতো একই এললেস্মির দ্বীপে ছিল।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা