জলপাইগুড়ি: পদ্মশ্রী পেলেন বাইক অ্যাম্বুলেন্স খ্যাত করিমুল হক। জলপাইগুড়ি জেলার প্রত্যন্ত এলাকা মালব্লকের ক্রান্তি এলাকার বাসিন্দা করিমুল হক। পদ্মশ্রী সম্মানের প্রকাশিত তালিকায় চার জন বাংলার বাসিন্দাদের নাম রয়েছে। যাঁদের মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে কেবলমাত্র করিমুল এই সম্মানে পেতে চলেছেন। তাঁর এই পদ্মশ্রীর সম্মানের জলপাইগুড়ি জেলার মানুষ।

১৯৬৮ সালে জন্ম হয় করিমুল বাবুর৷ ১৯৯৫ সালে বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে৷ বিনা চিকিৎসায় মারা যান করিমুল বাবুর মা জফুরান নেসা। তখন করিমুল বাবু ছিলেন একজন দিনমজুর। সেই দিন থেকেই তিনি মনস্থির করেছিলেন নিজের প্রাণ থাকতে কাউকে আর বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে দেবেন না। গ্রামের অসুস্থ মানুষদের নিজের সাইকেলে চাপিয়ে কখনো বা নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে রিক্সায় চাপিয়ে নিয়ে যেতেন স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

শুধু নিজের গ্রাম নয়, আশেপাশের গ্রামের থেকে মানুষের অসুস্থতার খবর এলেও সাইকেল নিয়ে ছুটে যেতেন তিনি। মুমূর্ষু রোগী যারা সাইকেলে চেপে যাতে পারবেন না তাদের জন্য তৈরি করেছিলেন ঠেলা গাড়ি। যাতে অসুস্থ রোগীদের চাপিয়ে সাইকেলের পেছনে বেঁধে নিয়ে যেতেন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। ১৯৯৯ সালে চার হাজার টাকার মাইনেতে চা বাগানের কাজে যোগ দেন তিনি। চা বাগানের কাজের থেকে নিজের সমাজসেবা কাজই বেশি করতেন তিনি। রোগীদের নিয়ে যাতায়াতের খরচের জন্য ১ হাজার টাকা করে চাকরির মাইনে থেকে সরিয়ে রাখতেন তিনি। এরপর ব্যাংকের থেকে ঋণ নিয়ে একটি বাইক কেনেন করিমুল বাবু। বাইকের সামনে এবং পেছনে অ্যাম্বুলেন্স লিখে সম্পূর্ণ নিখরচায় গ্রামের দুস্থ পরিবারের অসুস্থ মানুষগুলিকে নিয়ে রাত দিন এক করে হাসপাতালে ছুটে চলেছেন তিনি।

সম্প্রতি একটি বাইক কোম্পানি তার সমাজসেবামূলক কাজে খুশি হয়ে একটি অত্যাধুনিক বাইক অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত হাজার হাজার লোকের প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছেন করিমুল বাবু। করিমুল বাবু বলেন, ‘‘শুনলাম পদ্মশ্রী নাকি খুব বড় সম্মান। খুবই ভালো লাগছে শুনে। আমি জানি না এই সম্মান পাওয়ার আমি যোগ্য কিনা। আমি চাই আগামী-দিনে আরও বেশি করে এই কাজ চালিয়ে যেতে।’’