নয়াদিল্লি : আজ থেকে ১৫ বছর আগে বুথ ফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিয়েছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ ফের ক্ষমতা ফিরছে ৷ কিন্তু প্রকৃত ফল হতাশ করেছিল তৎকালীন বিজেপি সরকারকে৷ এবার ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের বুথ ফেরত সমীক্ষা রবিবার ইঙ্গিত দিয়েছে ফের ক্ষমতায় ফিরছে মোদী৷ কিন্তু বেশ কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক সেই ২০০৪ সালের পুরনো কথা মনে করিয়ে সতর্ক করেছেন৷

সেবারে বেশির ভাগ বুথ ফেরত সমীক্ষা জানিয়েছিল, অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ ভাল মতো এগিয়ে থাকবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের থেকে৷ মোটের উপর তখন বলা হয়েছিল এনডিএ ২৭২ ম্যাজিক ফিগার থেকে যদি সামান্যই কমও পায় তা দু একটা জোটসঙ্গীর সমর্থন নিয়ে উতরে যাবে৷ বাস্তবে তার থেকে অনেক কম আসন পায় ৷ সেই বার এনডিএ দু’শো পেরোতে পারেনি, ১৮৯তে আটকে গিয়েছিল৷

সেবার প্রকৃত ফল বার হতে, দেখা গিয়েছিলএনডি পেয়েছিল ১৮৯টি আসন অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউপিএ পেয়েছিল ২২৫টি আসন এবং অন্যান্যরা পেয়েছিল ১২৯টি আসন৷ অথচ বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা জানিয়েছিল, এনডিএ পাচ্ছে ২৪৮-২৭৮টি আসন৷

২০০৪ সালে বিজেপি ভোটের প্রচারে নেমে ‘India Shining’ স্লোগান তুলে ছিল৷ যদিও ভোটের পরে প্রাক্তন উপ প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি স্বীকার করেছিলেন, যদিও ওই শব্দ দ্বয় ব্যবহার নিজেদের মধ্যে বৈধ হলেও নির্বাচনী প্রচারের জন্য অনুপযুক্ত ছিল। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, সেই সময় ভোটের প্রচারে এটাকে ব্যবহার করতেগিয়ে বিরোধীরা সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল দেশের আরও অনেক কিছু আছে যা তুলে ধরা যায় ৷ যেমন দারিদ্র, বেকারত্ব, অসম উন্নয়ন ৷ আর সেগুলি তুলে ধরে বিরোধীরা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল তৎকালীন সরকারের দাবিকে ৷

২০১৯ সালে মোদী প্রচারে তুলে ধরতে চেয়েছেন , সামগ্রিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কাম্য অবস্থা ৷ ২০০৪ সালেও বিরোধীরা একত্রিত ছিল না৷ যদিও ২০টি বিরোধী দল নীতিগত ভাবে জোট করে এনডিএ-র বিরুদ্ধে ৷ তবে এদের কেউ কেউ নিজেদের বিরুদ্ধে লড়েছিল কোনও কোনও কেন্দ্রে৷ ২০০৪ সালে বামদলগুলি , বিএসপি,এসপি, টিডিপি, এবং জনতা দল (সেকুলার) সহ কয়েকটি দল কংগ্রেসে থেকে দূরে ছিল ভোটের সময়৷ পরে অবশ্য কংগ্রেস সরকার গড়লে এরাই বিশেষত বামেরা এগিয়ে আসে সরকারে না গেলেও বাহিরে থেকে সমর্থন জানাতে৷

আবার এটাও ঠিক ২০০৪ এর সঙ্গে ২০১৯ সালের অবস্থার ফারাক রয়েছে ৷ বিজেপির এবার অনেক বেশি ভোটের ভিত্তি রয়েছে৷ ১৯৯৯ সালে বিজেপির ভোট ছিল ২৩.৮ শতাংশ যেখানে ২০১৪ সালে ভোট ছিল ৩১.৩ শতাংশ৷ তাছাড়া সাংগঠনিক দিক থেকে বিজেপি এবার অনেক বেশি রাজ্যে শক্তিশালী৷ ফলে দলের দিক থেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ওডিশা পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলিতে৷

নীতিগত ভাবে গেরুয়া দল অনেক বেশি খরচ করেছে পূর্বের রাজ্যগুলিতে যাতে উত্তরের রাজ্যগুলিতে ক্ষতি হলেও তা পুষিয়ে যায় এখান থেকে ৷ যা ২০১৪ সালে ছিল না৷ তা ছাড়া ২০০৪ সালে জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান ইস্যু ছিল না এবং ২০১৯ সালের বিজেপি প্রচারে নেমেছে দেশপ্রেম ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সম্বল করে ৷ ফলে একেবারে ২০০৪ সালের সঙ্গে পুরোপুরি তুলনা করা যায় না ২০১৯কে৷