স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: বাম কংগ্রেস জোট হয়নি৷ দোষারোপ চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে৷ কিন্তু তাতে তীক্ততার থেকে বেশি রয়েছে অভিমান৷ রাজনীতির পরিভাষায় যা ‘কৌশল’৷ তাই ভবিষ্যতের কতা মনে রেখে মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী দেয়নি বামেরা৷ লড়াই তাই এই কেন্দ্রে ত্রিমুখী৷ কিছুটা স্বস্তিতে কংগ্রেস প্রার্থী অবু হাসেম খান৷ তাই বলেই ফেললেন, ‘‘রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভোট প্রচারে বড় জনসভা করলে বাম নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’’

তবে কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচারে কী অংশ নেবে বামেরা? স্পষ্ট নয় বিষয়টি৷ এপ্রসঙ্গে খোদ প্রার্থী বলছেন, ‘‘বাম কর্মীরা ভোটে সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে পরাজিত করতে ময়দানে নেমেছেন। দক্ষিন মালদা বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল লিখন সহ প্রচার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। তবে এখনও যৌথভাবে প্রচার করার কোন সিদ্ধান্ত হয় নি৷’’

আবু হাসেম খান চৌধুরী উত্তর মালদহের ১০ বছরের সাংসদ৷ এবারও হাত শিবিরের প্রার্থী তিনিই৷ যদিও প্রচারে তেমন জৌলুস নেই৷ বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে সন্ধ্যার পর থেকে কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে করে গোপন বৈঠক করছেন। এ বিষয়ে আবু হাসেম খান চৌধুরী বলেন, ‘‘তৃণমূল সন্ত্রাসের পরিবেশ করে রেখেছে। আমাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিটিং মিছিল করলেই তারা তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হবেন। সেই কারণে আমরা শক্তি জাহির করছি না। যা করার মানুষ ভোটের মেশিনে করবে।’’

আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদে সোনা’র গৌরব পুনরুদ্ধারে’র চ্যালেঞ্জ আবু হেনা’র

এই আবস্থায় তো বামেরা প্রচারে সহযোগী হলে মন্দ হত না? জবাবে কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, ‘‘আমরা চাইছি তো যে বামেরা তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে ময়দানে নামুক। এই লড়াই কঠিন লড়াই। আমাদের জিততেই হবে।’’ তবে এবিষয়ে বামেদের অবস্থান ‘কৌশলী’-ই৷

প্রচারে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী মোয়াজ্জেন হোসেনও৷ দক্ষিণ মালদহে বামেদের প্রার্থী না দেওয়াকে কটাক্ষ করেন তিনি৷ বলেন, ‘‘এখন যারা কংগ্রেস করে তাদের একসময় সিপিএমের ‘বি-টিম’ বলা হত। তরমুজ বলে সমালোচনা হত৷ মানে ওপরটা সবুজ, ভেতরটা লাল। আগে লুকিয়ে চুরিয়ে সিপিএমের দালালি করত। এখন প্রকাশ্যেই করে। ওদের দিল্লির নেতাদের এদের উপর ভরসা নেই। তারাও তাকিয়ে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। বিজেপিকে রোখার ক্ষমতা ওদের নেই। তৃণমূল এই রাজ্যে বিজেপিকে আটকাবে৷ ওরা দালালী করুক।’’

তৃণমূল কী হাত সরিয়ে উত্তর মালদহে গাস-ফুল ফোটাতে পারবে? নাকি বামেদের সঙ্গে নিয়ে গতবারের প্রায় এক লক্ষ ভোটের ব্যবধান বাড়াতে পারবেন আবু হাসাম খান? লড়াই শেষে উত্তরের অপেক্ষায় সবাই৷