শ্রীনগর : পুষ্টিকর বাদামই নাকি এবার জম্মু কাশ্মীরে জঙ্গিদের ফান্ডিং এর মাধ্যম হয়ে উঠেছে৷ তাও আবার ক্যালিফোর্নিয়ার বাদাম৷ ‘অমর উজালা’ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এই বাদামের বড়সড় ব্যবসা রয়েছে সীমান্তের ওপারে৷ জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণ রেখার সলামাবাদ এবং চক্কা-দ-বাগ কেন্দ্র থেকে বাদামের ব্যবসা অনিশ্চিত কালের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে৷ সূত্রের খবর এই ব্যবসার টাকা দিয়ে জঙ্গিদের হাতে নতুন অস্ত্র এবং মাদক উঠে আসছে৷ এই তথ্য পাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

দেশের বাদাম বাজারে প্রায় ৭৩ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ার বাদামের দখলে রয়েছে৷ এই বাদাম সীমান্তের রাস্তা দিয়ে দেশে ঢোকে৷ এক সুরক্ষাকর্মী জানায় পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা ক্যালিফোর্নিয়ার বাদাম কম দামে নিয়ে এসে অনেক বেশি দামে সেই বাদাম বাজারে বিক্রি করে৷

ফাইল ছবি

সূত্রের খবর এই লাভের একটা মোটা অংশ জঙ্গিদের ফান্ডিং-এ যায়৷ এই টাকা ব্যবহৃত কাশ্মীরে, দেশবিরোধী কাজে৷

এনআইএ-র আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তারা তদন্তে জানতে পেরেছেন, যে ব্যক্তিরা ভারত থেকে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনে সামিল হয়েছে, তারা নিজেদের কোম্পানি খুলে বসেছে৷ এই কোম্পানিগুলি জঙ্গিদের দখলে রয়েছে বলে সূত্রের খবর৷

অনুমান করা হচ্ছে গত বছর ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা জঙ্গি সংগঠনের কাছে পৌঁছেছে৷ এনআইএ-র কর্তারা বারামুলা এবং পুঞ্চের একাধিক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷ এই এলাকার ট্রেড সেন্টারে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷

ফাইল ছবি

পাশাপাশি এই রুট, কোকেন, ব্রাউন সুগার এবং হেরোইনের মতো মাদক পাচারের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে৷ সীমান্তের যুব সমাজের উপর এর খারাপ প্রভাব পড়ছে৷ কয়েকদিন আগেই কাশ্মীর থেকে পুলিশ কর্তারা ৬৫.৫ কিলো হেরোইন উদ্ধার করে৷ তদন্তে জানা যায় এই মাদক সীমান্তের রাস্তা দিয়েই ঢুকেছিল৷

এনআইএ-র তদন্তে উঠে এসেছে, সাল ২০০৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সলামাবাদ কেন্দ্র থেকে ৪৪০০ হাজার কোটি এবং চক্কা-দ-বাগ থেকে ২৫৪২ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে৷ এই টাকার থেকে প্রায় ২০ শতাংশ টাকা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে৷