লস এঞ্জেলস: আরও একবার স্কুলচত্বরে বন্দুকবাজের হামলার সাক্ষী রইল আমেরিকা।

বৃহস্পতিবার সকালে ক্যালিফোর্নিয়া শহরে এক বন্দুকবাজের হামলায় মৃত্যু হল দুই জন স্কুল পড়ুয়ার। এই হামলায় জখম হয়েছে অন্ততপক্ষে তিন জন স্কুলপড়ুয়া। পুলিশের কাছে ধরা পড়ার আগেই নিজের গুলিতে আত্মঘাতী হয়েছে ওই বন্দুকবাজ।

এ দিন সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে লস এঞ্জেলস থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে সান্টা ক্লারার সগাস হাইস্কুলে।

এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ১৬ বছর বয়সী শনা ওরান্ডি বলে, ‘আমি তখন স্প্যানিশ ক্লাসে বসে হোমওয়ার্ক করছিলাম তখনই আমি চারবার গুলির শব্দ শুনি। প্রথমে আমি ভাবি পাশে ব্যান্ড প্র্যাকটিস হচ্ছে সেখানকার আওয়াজ কিন্তু স্কুলের সবাই দৌড়াদৌড়ির মধ্যেই আমি বন্দুক হাতে ওই ব্যক্তিকে দেখতে পাই।’

স্কুলচত্বর থেকে কোনওমতে পালিয়ে শনা আর তাঁর বাবা আশ্রয় নেয় পাশের একটা পার্কে। এই প্রসঙ্গে সে আরও বলে, ‘আমার সবথেকে বড় দুঃস্বপ্ন যেন সত্যি হয়ে গেল, আমি ভেবেছিলাম আর বাঁচব না।’

অন্যদিকে আর এক প্রত্যক্ষদর্শী রোজি রডরিগেজ আবার বেলুন ফাটার শব্দ ভেবে প্রথমে ভুল করেছিলেন। কিন্তু চারিদিকে খুদে পড়ুয়াদের কান্নাকাটি শুনে ভয় পেয়ে যান তিনিও। তাঁর মতে, ‘প্রায় দশজন বাচ্চাদের সঙ্গে আমি রাস্তার ওপারে একটা বাড়িতে আশ্রয় নি।’

এই ভয়ঙ্কর ঘটনার পর বিহ্বল রোজি বলেন, ‘আমি ভাবিনি এইরকম ঘটনা কোনোদিনও আমার স্কুলে ঘটবে।’

লস এঞ্জেলসের শেরিফ অ্যালেক্স ভিলানুয়েভা বলেন, ‘প্রায় ছ’জন পড়ুয়া গুলিবিদ্ধ হয়েছে।১৬ বছর বয়সী বন্দুকবাজও এই স্কুলের পড়ুয়া ছিল। এ দিন ওর জন্মদিন ছিল। তদন্তের স্বার্থে এর থেকে বেশি কিছু এখন বলা যাবে না।’

বন্দুকবাজের আত্মহত্যার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। পুলিশ সূত্রে খবর বন্দুকবাজ .৪৫ ক্যালিবারের হ্যান্ডগান দিয়েই এই হামলা চালায়।

মৃত দুই পড়ুয়ার বয়স যথাক্রমে ১৬ এবং ১৪। যদিও তাঁদের নাম প্রকাশ করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এই ঘটনার পরেই সগাস হাইস্কুল-সহ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। বন্ধ করে দেওয়া হয় পার্শ্ববর্তী সমস্ত স্কুল।

স্কুলচত্বরে একের পর এক বন্দুকহামলার ঘটনায় চিন্তার ভাঁজ পুলিশ-প্রশাসনের কপালে। এই হামলা প্রতিরোধে আমেরিকার অস্ত্রআইন কঠোর করার দাবি জানিয়েছিল সে দেশের বহু অভিভাবকই। অস্ত্র আইন বিরোধী মিছিলও হয়। অস্ত্রআইনের শিথিলতার ফলেই আমেরিকায় বন্দুকবাজের হামলা বাড়ছে, এই অভিযোগও ওঠে। কিন্তু, অস্ত্রআইন শিথিল রাখারই পক্ষেই সায় দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

আরও একটি বন্দুকবাজের হামলার পড়ে কি হুঁশ ফিরবে প্রশাসনের? উত্তরের অপেক্ষায় অভিভাবকেরা।