স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : বইপ্রেমী মানুষদের জন্য সুখবর। সবার জন্য খুলে যাচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের গ্রন্থাগার দ্বার। ভারতবর্ষে এই প্রথম কোনও বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গ্রন্থাগারকে সর্বজন সমাদৃত করতে চলেছে।

শতাব্দী প্রাচীন এই গ্রন্থাগারে রয়েছে দুষ্প্রাপ্য সব গ্রন্থ। এবার শত বছরের জমানো সেই জ্ঞান ভাণ্ডার অবারিত জন সাধারণের জন্য। পড়ার বইয়ের পাশাপাশি প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ৫২ হাজার বই কিনতে।

আরও পড়ুন : দেখে নিন মাছ চাষে রাসায়নিক মিশিয়ে কি ক্ষতি হচ্ছে মানব শরীরে

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” ৫ কোটি টাকা আমাদের ডিরেক্টরেট অফ লাইব্রেরি সায়েন্স থেকে দিয়েছিল। রাজ্য গ্রন্থাগার বিভাগের মূল উদ্দেশ্য ছিল, এই টাকা ব্যবহার করে পাবলিক লাইব্রেরি তৈরি করা। প্রথম ভাগে আমরা ২ কোটি টাকা পেয়েছি। সেই টাকা হাতে পাওয়ার পর আমরা সিদ্ধন্ত নিই আমাদের তো সেন্ট্রাল লাইব্রেরি রয়েছেই। তাছাড়া রয়েছে আটটি অ্যাকাডেমিক ক্যাম্পাস। সেখান থেকেও পড়ুয়া বই পড়তে পারবেন। নিজেদের জ্ঞানের উন্মেষ ঘটাতে পারবেন। তাই পড়ুয়াদের পাশাপাশি সাধারণ পাঠকরাও যাতে বই পিপাসা মেটাতে পারেন তার জন্যই এই উদ্যোগ।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক জানান, ” আমরা প্রত্যেক মুহূর্তেই অনুসন্ধান করতে থাকি সাধারণ মানুষ কি ধরণের বই পড়তে ভালবাসেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ির মহিলারাও রয়েছেন। এই সমস্ত ধরণের পাঠকের রুচি অনুযায়ী উপন্যাস, কবিতা সমস্ত দিক মিলিয়ে বাংলা-ইংরাজি সমস্ত বিষয় মিলিয়ে নানা ভাষার বই রয়েছে। “

“বহু পড়ুয়া রয়েছেন যারা মেধাবী। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসতে চান। কিন্তু তাঁদের আর্থিক অবস্থা ঠিক নেই। তাই তাঁরা বই কিনতে পারেন না। তাঁদের ইউপিএসই থেকে ডব্লুবিসিএস সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসতে সাহায্য করতেও এই উদ্যোগ। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে এই পরিষেবা। “

আরও পড়ুন : রাজনীতি কোনওদিন টানেনি, লেখালিখি নিয়ে থাকতে চেয়েছি: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

এই গ্রন্থাগারের পরিষেবা শুধু মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিকাঠামোর মধ্যেই সীমিত নয়। যখন সর্ব সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে এই লাইব্রেরী তখন রাজ্য গ্রন্থাগার থেকে আরও ৩ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

উপাচার্য আরও বলেন, “ফিল্ম স্টাডিজ কর্নারের জন্য লাইব্রেরিতে জায়েন্ট স্ক্রিন লাগান হবে। ফিল্ম বিষয়ক বিভিন্ন সিডি, ডিভিডিও রাখা হবে। এছাড়াও উইমেন্স কর্নার, স্পোর্টস সায়েন্স কর্নার, অ্যাংলো ইন্ডিয়ান কর্নার তৈরি করা হচ্ছে। এই একই বিষয়গুলি অ্যাকাডেমিক ক্যাম্পাসেও রাখা হবে। যে কারণে একটি বইয়ের একাধিক কপি কেনা হয়েছে। এই সমস্ত অ্যাকাডেমিক বিভাগগুলিকে ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। যাতে তাঁরা নিজেদের পছন্দ মত বই কিনতে পারেন। ১৮ টি হস্টেলে ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। এই আইপি দিয়ে ই-লার্নিংয়ের সুবিধা নিতে পারবেন বোর্ডাররা। “

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, পরে যে অনুদান মিলবে তা দিয়ে ই-রিসোর্স কেনা হবে। সেন্ট্রাল লাইব্রেরির চারটি তলা সাধারণের পঠন সূত্রে খুলে দেওয়া হবে।