ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলায় বুধবার পুলিশি তদন্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজ শেখর মন্থা। তিনি এদিন বলেন গোপন জবানবন্দি নিয়ে নিলেই পুলিশের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পুলিশ যদি দায়সারা কাজ করে তাহলে মানুষ আস্থা হারাবে৷

বুধবার এই মামলায় আবেদনকারীর আইনজীবী উদয় শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করে জানান মৃত গৃহবধূর বাবার গোপন জবানবন্দি নিয়েছে পুলিশ৷ কিন্তু তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ৬ মাস৷ এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। পুলিশ শুরু থেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে, কারণ অভিযুক্ত স্বামী পেশায় সিভিক ভলেন্টিয়ার।

বর্ধমানে বোড়শুলা গ্রামের বাসিন্দা তপন কুমার গুঁই পেশায় শিক্ষক৷ তাঁর একমাত্র মেয়ে কমলিকা গুঁইয়ের সাথে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা পেশায় সিভিক ভলেন্টিয়ার সৌরেন অধিকারীর বিয়ে দেন। ২০১৬ সালে জুলাই মাসে কমলিকার বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি আসে৷ সেদিনই দুপুরবেলায় তপন বাবুর কাছে ফোন করে জানানো হয়, তার মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে৷

তপন বাবু হাসপাতালে গিয়ে দেখেন স্ট্রেচারে মেয়ের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে৷ সকালে তপন বাবুর বাড়ি থেকে কমলিকা যে পোশাকে বেরিয়ে ছিলেন, তার পরনে ছিল সেই পোশাকই৷

সেদিনই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তপন বাবু। পুলিশ ১৫ই জানুয়ারি ২০১৮ সালে চার্জশিট জমা দিলেও তদন্তের কোন অগ্রগতি হয়নি। তাই এবার মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের আশায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তপন বাবু৷ এই ঘটনায় হাইকোর্ট পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে৷