স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: জনসাধারণ কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতোর যাবজ্জীবন সাজার নির্দেশ খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট৷ ছত্রধর মাহাতো সহ চারজনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছিল৷ তার বেশ কিছু ধারা এদিন শিথিল করে দেয় হাইকোর্ট৷ এর মধ্যে যে কটি ধারা আরোপ করা হয়েছে, তার সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদ দশ বছর৷

জানা গিয়েছে, ছত্রধর মাহাতো,শগুন মাহাত, সুখশান্তি বাসকে, শম্ভু সোরেন, সাগুন মুর্মুর ১০ বছরের সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে৷ পাশাপাশি, রাজা সরখেল, ও প্রসূন চট্টোপাধ্যায়কে বেকসুর খালাস দিয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি মহম্মদ মুমতাজ খান ও বিচারপতির জয় সেনগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ৷

আরও পড়ুন : ডিসেম্বরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচন, ফিরছেন দিলীপ

এদিন হাইকোর্ট জানায়, এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার৷ ২০০৯ সালে এদের গ্রেফতার করা হয়৷ দেশদ্রোহীতার প্রমাণ ছিল, তাই ইউএপিএ ধারায় মামলা করা হয়৷ তবে নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় খারিজ করে বেশ কিছু ধারা শিথিল করল হাইকোর্ট৷

জুলাই মাসে ছত্রধর মাহাত-র জামিনের মামলা-সহ নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার পৃথক দুটি মামলা ওঠে বিচারপতি মুমতাজ খান ও বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে৷ বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন পরবর্তী শুনানিতে নিম্ন আদালতের রায়ের চ্যালেঞ্জের মামলাটির শুনানির পর, তবেই জামিনের মামলাটি শুনবে আদালত।

আরও পড়ুন : ব্রিটিশ আইএস জঙ্গির সন্তানদের ঠাঁই মিলবেনা দেশে

তবে ছত্রধর মাহাতোর পক্ষের আইনজীবী শেখর বসু সেদিন জানিয়ে ছিলেন ছত্রধরের বিরুদ্ধে যে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দেওয়া হয়েছে সেটা কি কেন্দ্র দিয়েছে না রাজ্য সরকার? কারণ, কারোর বিরুদ্ধে কেন্দ্রকে এই সংক্রান্ত ধারা দিতে গেলে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত হতে হয়৷ একইভাবে রাজ্যকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হলে রাজ্যপালের অনুমোদন প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে কোন প্রেক্ষাপটে ছত্রধরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রুজু করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়৷