স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মিড ডে মিলের অস্থায়ী কর্মীর আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশি তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। শনিবার পুলিশি তদন্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকের আগাম জামিন মঞ্জুর করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ।

মামলার বয়ান অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ জুন বীরভূমের ষাটপলসা হাই স্কুলের মিড ডে মিলের অস্থায়ী কর্মী প্রদীপ ভল্লা নিজের করা একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দেন। সেই ভিডিওতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং প্রাক্তন পরিচালন কমিটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান তিনি। ভিডিওতে তিনি বলেন এই তিন অভিযুক্ত তাঁর ওপর মানসিক অত্যাচার চালাচ্ছে। সেই কারণে তিনি যে কোন মুহুর্তে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে হুমকির ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন সোশ্যাল মিডিয়াতে।

এরপর ২০ জুন স্কুলের হস্টেলের ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান স্কুলের আবাসিকরা। থানায় খবর দেওয়া হলে ময়ূরেশ্বর থানার পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মৃত প্রদীপ ভল্লার স্ত্রী শংকরী ভল্লা ময়ূরেশ্বর থানায় অভিযোগ করেন তার স্বামীকে খুন করা হয়েছে। ময়ূরেশ্বর থানার পুলিশ ৩০২ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।

বীরভূমের ষাট পলসা হাই স্কুলের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কালীসাধন মন্ডল, সহকারি প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু মন্ডল এবং স্কুল পরিচালন কমিটির প্রাক্তন সম্পাদক অশোক মন্ডল সিউড়ি নিম্নআদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানান। সেই আবেদন খারিজ করে দেয় নিম্ন আদালত। নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এই তিনজন অভিযুক্ত।

শুক্রবার মামলার শুনানি চলাকালীন তিন অভিযুক্তের পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী আদালতে জানান ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছে। পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খুনের মামলা রুজু করেছে। কারণ যেদিন ঘটনাটি ঘটেছিল সেই দিন এরা কেউই উপস্থিত ছিলেন না। তাহলে এই খুনের সাথে কিভাবে যুক্ত হলেন। সরকারি আইনজীবী আগাম জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে জানান প্রদীপ বাবু মৃত্যুর আগে যে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তাতে তিনি সমস্ত ঘটনা উল্লেখ করেছিলেন।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন যেহেতু তিনি ভাইরাল করা ভিডিও নিয়ে কোন অভিযোগ থানায় করেননি, তাই মৃত্যুর সাথে ওই ভিডিওর কোনও যোগ নেই। পাশাপাশি বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন রাত্রি দশটার ঘটনা সেখানে প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং প্রাক্তন সম্পাদকের উপস্থিতির কোনও প্রমাণ মেলেনি। তেমনি সহকারি প্রধান শিক্ষক ভেলোরে চিকিৎসার জন্যে গিয়েছিলেন তারও প্রমাণ রয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই ময়ূরেশ্বর থানার পুলিশ খুন এবং খুনির উপস্থিতির যে অভিযোগ করছে তা আদালতে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তাঁদের উপস্থিতির কোন প্রমাণ মেলেনি।

এই মর্মেই প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং প্রাক্তন পরিচালন কমিটির সম্পাদককে আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়। পাশাপাশি সকলকে তদন্তে সহযোগিতা করারও নির্দেশ দেয় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতির জয় সেনগুপ্ত ডিভিশন বেঞ্চ।