কলকাতা: ভ্রুণের ভেতরে বেশ কিছু সমস্যার কারণে গর্ভপাতের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক গৃহবধূ৷ এই মামলা নিয়েই বেশ দোলাচলে কলকাতা হাইকোর্ট৷ কারণ রাজ্যের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এসএসকেএমের রিপোর্টে সায় নেই ওই গৃহবধূর গর্ভপাতের জন্য। তবে চিকিৎসকরা এও জানিয়েছেন যে ওই মহিলার গর্ভে যে সন্তান বড় হচ্ছে তার মেয়াদ ৭ বছর। জীবিত মানুষকে এইভাবে গর্ভপাত করার পক্ষে সায় দিতে নারাজ রাজ্য সরকার। গৃহবধূর গর্ভপাত করানোর হলে জীবন সংশয়ের ও আশঙ্কা করছেন এসএসকেএমের গঠিত মেডিকেল বোর্ড।

মামলার বয়ান অনুযায়ী মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী কল্লোল বসু ও অপলক বসু জানান ১৯৯৯ সালে বিয়ে হয় ওই গৃহবধূর৷ বর্তমানে এই দম্পতির ১৪ বছরে এক কন্যা রয়েছে। দ্বিতীয়বারের জন্য অন্তঃসত্ত্বা হয় বেলেঘাটার এই গৃহবধূ।

২২ শে অক্টোবর ২০১৮ সালে পর থেকে নিয়মিত চিকিৎসা চলছিল ওই গৃহবধূর এবং সময়ের সাথে সাথে দেখা যায় যে ওই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ভ্রুণের ভেতরে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি এবং ব্লাড টেস্ট করা হয়৷ এই পরীক্ষাগুলো করা হয় বিভিন্ন গাইনোকোলজিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।

আরও পড়ুন : চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে ভাঙচুর নিউরো সায়েন্সে

তারই মাঝে ২০ সপ্তাহ পার হয়ে যায়। চলতি বছরের এক নামজাদা গাইনোকোলজিস্টের কাছে জানতে পারেন এই শিশু ভূমিষ্ঠ হলে সন্তানের জীবনহানি হতে পারে, মায়ের শারীরিক ক্ষতি হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে।

১৪ ই জানুয়ারি নীলরতন সরকার হাসপাতাল গর্ভপাতের জন্য আবেদন করলে চিকিৎসকরা তার গর্ভপাত করতে অস্বীকার করেন। কারণ হিসাবে চিকিৎসকরা জানান কুড়ি সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে তাই গর্ভপাত করা সম্ভব নয়। এরপর মহিলা দুজন বেসরকারি চিকিৎসকের কাছেও দ্বারস্থ হন। কিন্তু তারা জানান মেডিকেল টার্মিনেশন প্রেগনেন্সি অ্যাক্ট ১৯৭১ আইন অনুযায়ী গর্ভপাত করা সম্ভব নয়৷

নিরুপায় ওই মহিলা এসএসকেএম হাসপাতালে দ্বারস্থ হন৷ কিন্তু সেখানেও কোন সুরাহা মেলেনি। আশার আলো দেখতে না পেয়ে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই দেবনাথ দম্পতি। ২২ শে জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০টার সময় দেবনাথ পরিবারের পক্ষের আইনজীবী পুরো বিষয়টি নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী রাজ্যের অতিরিক্ত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল অভ্রতোষ মুখোপাধ্যায়কে দুপুর ১ টার সময় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আইনজীবী জানান ২৫ সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে শিশু ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত। নাকের হাড় নেই, হার্টের সমস্যা এবং পেটের সমস্যা রয়েছে। তাতে মা এবং শিশু দুজনেই ক্ষেত্রে জীবনহানির সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন : দম্পতিদের দু’টির বেশি সন্তান জন্মের পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর

বিচারপতি চক্রবর্তী এসএসকেএমের ডাইরেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বুধবার ২২ শে জানুয়ারি সকাল ১১ টার মধ্যে এই মহিলার মেডিকেল টেস্ট করাতে হবে সুপার স্পেশাল চিকিৎসক দ্বারা। কিন্তু অতিরিক্ত এডভোকেট জেনারেল মজুমদার জানান আগামীকাল ছুটি তাই এটা করা সম্ভব নয় । এরপর এই বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার মধ্যে বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন।

ওই সময়ের মধ্যে মহিলাকে বোর্ডের কাছে হাজির হতে বলেছেন। চিকিৎসকরা অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ভ্রুণের পরীক্ষা করবেন। আগামি সোমবার গৃহবধূ এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য বলেন বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং পাশাপাশি এও জানান জীবিত মানুষকে মারার পক্ষে আদালত সায় দিতে নারাজ।