ছবি-শশী ঘোষ

সুভীক কুন্ডু: এই কদিনে ফুটবলপ্রেমী কলকাতাবাসীর হৃদয় জুড়ে একটাই নাম জ্যাডন স্যাঞ্চো আর একটাই দল ইংল্যান্ড৷ স্যাঞ্চোর দলকে হৃদয় দিয়ে সাপোর্ট করেছে ফুটবলের মক্কা৷ সেই ছবিই বারেবারে ধরা পড়ছে যুবভারতীর আনাচে কানাচে৷ কচি কাঁচাদেরও দেখা গিয়েছে স্যাঞ্চো আর ইংল্যান্ড দুই শব্দে বুঁদ হয়ে থাকতে৷

আরও পড়ুন- থ্রিলার জিতে শেষ ষোলোয় থ্রি-লায়ন্স

গালে ইংল্যান্ডের পতাকার ছবি, আর গলায় ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড জয়ধ্বনি৷ এই দৃশ্যই দেখা গিয়েছে যুব বিশ্বকাপের ইংল্যান্ডের ম্যাচে৷ গ্যালারি দেখলে মনে হবে কলকাতা না, এ যেন  টেমসের তীরে হোম গ্রাউন্ডে খেলতে নেমেছে স্টিভ কুপারের ছেলেরা৷

বুধবারের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকি দাউদ হানায় চিলি হার চাক্ষুষ করার পর বাড়ি ফেরার পথে একদল কলেজ পড়ুয়া তর্ক জুড়ে দিল এদিনের সেরা কে? একপক্ষ ‘ইরাকি আতঙ্ক’ দাউদে মোহিত, অন্য পক্ষ ‘মেক্সিকোর মেসি’ লাইনেজকে সেরা বললেন৷

আরও পড়ুন- যুবভারতীতে দাউদের গোলায় বিধ্বস্ত চিলি

আর মেজরিটি? কলেজ পড়ুয়াদের সেই টিমের মেজরিটির ভোট গিয়ে পড়ল স্যাঞ্চোর দিকে৷ অর্থাৎ সেই ঘুরেফিরে ইংল্যান্ড৷ শেষে বান্ধবীকে পাশে নিয়ে একজন বলেই বসলেন, ‘তোরা আর ইংল্যান্ডের মোহ থেকে বেরুতে পারলি না৷’ তখনও সেই কিশোরের ফুটবল পাগল বান্ধবীর গালে আঁকা ইংল্যান্ড পতাকা৷  তাই আর চোখেই বন্ধুর চিমটির প্রত্যাঘাতে বান্ধবীর জবাব ছিল, ‘বাঙালি ভাল ফুটবল দেখতে ভালবাসে,আর সেটাই ধারাবাহিকভাবে উপহার দিচ্ছে ইংল্যান্ড৷  তাই ওদের হয়েই শেষ ম্যাচটায় গলা ফাটাব৷’

আরও পড়ুন- ঐশ্বরিক জাদুর আবেগে ভাসছে আর্জেন্টিনা

ব্যাস, জেন ওয়াইয়ের ভোট পড়ে গেল ব্রিটিশদের ঝুলিতে৷ তার মানে শনিবার দাউদের ইরাককে খেলতে হবে ১২ জনের বিরুদ্ধে৷  যেমনটা খেলতে হল চিলি আর মেক্সিকোকে৷ ইংল্যান্ড একাদশ খুদে তারকার পাশে কলকাতার সমর্থন যেন টুয়েলভ ম্যান হয়ে আগলে রাখছে স্যাঞ্চোদের৷

কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না৷  বিশ্বকাপ শুরুর আগে মনে করা হয়েছিল এফ গ্রুপের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে বাদ দিয়ে বাকি তিন দল অর্থাৎ চিলি, মেক্সিকো আর ইরাককে সমান ভালবাসা উজাড় করে দেবে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা৷ দেড়শো বছরের উপনিবেশ ইতিহাস ভুলে এত সহজে ব্রিটিশ ফুটবলারদের আপন করে নেবে কলকাতা তা বোঝা যায়নি৷

আরও পড়ুন- মেসি ম্যাজিকে ‘চির সবুজের দেশে’ স্বস্তির শ্বাস আর্জেন্টিনার

এই গ্রুপেই মেক্সিকো দলে আবার রয়েছে ‘মেক্সিকান মেসি’ লাইনেজ৷ ইরাকের দলে দাউদের মতো উঠতি ফুটবলার৷ সেই ভালবাসায় স্যাঞ্চো-গোমেজরা ভাগ বসাবে কেউ আশাও করেনি৷ শুধু ভাগ বসিয়েছে বললে কম বলা হবে একেবারে কলকাতায় ঘাঁটি গাড়া বাকি তিন দলের কাছে ঈর্ষার পাত্র হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ বাহিনী৷

কি এমন ম্যাজিক করল এই ইংল্যান্ড যে একেবারে মাথায় তুলে রাখছেন ময়দানি ফুটবল প্রেমীরা? আসলে বাংলা প্রমাণ করেছেন ভালো ফুটবলের কদর বুঝতে কসুর করে না ফুটবল মক্কা-কলকাতা৷ তাই তো প্রথম ম্যাচে লাতিন আমেরিকার চিলিকে শুরুতে সাপোর্ট করলেও স্যাঞ্চোর পাশ থেকে হাডসনের প্রথম গোলে মুগ্ধ হয়েছিল যুবভারতী৷ প্রতিটি ম্যাচ জিতে ভিকট্রি ল্যাপ দিয়ে সেটাই যেন কুড়িয়ে নিচ্ছে স্যাঞ্চো- ব্রেউস্টাররা৷

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।