কলকাতা: সত্তরের দশকের কলকাতা ফুটবলের সোনালী দিনের কথা মনে করিয়ে লিগে উপচে পড়ছে দর্শক৷ ময়দানে ভিড় জমাচ্ছে আট থেকে আশি৷ মোহনবাগান- ইস্টবেঙ্গল দুই মাঠেই৷ কিন্তু সবুজ মেরুন জনতার উৎসাহ যেন একটু বেশিই৷ গঙ্গাপারের ক্লাবের খেলা দেখার জন্য স্রোতের মতো সমর্থকরা আসছেন মাঠে৷ সবাই যে মাঠের ভিতরে ঢুকতে পারছেন, এমনটা নয়৷ কারণ গ্যালারিতে বসার জায়গাও সীমিত৷ তাই খেলা দেখার জন্য রবিবার জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা করেছিল মোহন কর্তারা৷ যাঁরা মাঠে ঢুকতে পারেননি, তারা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালেন৷

আরও পড়ুন: ক্রো-কা’র ম্যাচ দেখবেন জায়ন্টস্ক্রিনে

লিগের শুরু থেকেই ভিড়ের দিক থেকে প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গলকে টেক্কা দিচ্ছিল মোহনবাগান৷ টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছিল ম্যাচ শুরুর তিন ঘণ্টা আগেই৷ শেষদিকে দশ-পনের টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছিল চার-পাঁচগুণ বেশি দামে৷ এরপরও যাঁরা টিকিট পাচ্ছিলেন না, দাঁড়িয়ে পড়ছিলেন ব়্যামপাটে৷তাই চলতি মরশুমে কলকাতা লিগে বাগানের ম্যাচ দেখতে গিয়ে টিকিট না পেয়ে এক রাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন সমর্থকরা৷ ম্যাচের ঘন্টা খানেক আগেই টিকিট সোল্ড আউট হলে কি হবে মাঠের বাইরে তখনও জনা পাঁচশো ফ্যানের ভিড়৷ এই দৃশ্যই শেষ কয়েক ম্যাচে ধরা পড়েছে বাগান তাঁবুর বাইরে৷ গত রবিবারই মাঠের বাইরে থাকা বাগান জনতাকে সামলাতে হিমশিম খেয়েছে ঘোড়পুলিশ৷ যা দেখে অনেকেই বলছেন ময়দানে ফিরে এসেছে সত্তর দশকেই সেই জনজোয়ার৷ আর বাগান ভক্তদের খুশি করতে তাই অভিনব উদ্যেগ নিল তাঁদের প্রিয় ক্লাব৷সেই উপলক্ষ্যেই রবিবার ক্লাবের বাইরে বসল অস্থায়ী জায়ন্ট স্ক্রিন৷ ক্রিকেটের সচিন-সৌরভ আর হাল আমলের কোহলিকে দেখতে শহর কলকাতায় বড়ো সাইজের স্ক্রিন লাগিয়ে খেলা দেখতে দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবল নিয়ে এমন উন্মাদনা চোখে পড়েনি৷ ঘরোয়া লিগে সেই দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ময়দান চত্তর৷

আরও পড়ুন: যুবভারতী এখন শুধু মোহন-ইস্টের নয়,সারা বিশ্বের

এদিন ছিল বাগান জনতার হার্টথ্রব হোসে রামিরেজ ব্যারেটোর জন্মদিন৷ তাই জায়ান্ট স্ক্রিনে দুপুর থেকে চলল ‘সবুজ তোতা’-র নানান ভিডিও ফুটেজ৷ সঙ্গে মোহনবাগানের গান গাওয়া বিভিন্ন ব্যান্ডের গান৷ গায়িকা পায়েল দে যখন গাইতে শুরু করলেন, ‘‌আমাদের সূর্য–মেরুন’‌ তখন রাজপথ, ফুটপাত মিলে–মিশে একাকার’৷ পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছিল ‘‌মেরিনার্স ফুটবল ফিয়েস্তা’‌৷ এ যেন ফুটবল–উৎসবই বটে৷ আবালবৃদ্ধবনিতা দুলছেন গানের তালে তালে৷ জমিয়ে দিল মোহনবাগান ফ্যান ক্লাবগুলো৷ না, ময়দান এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেনি৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প