পর্ণা সেনগুপ্ত : কোনও বিশেষ বর্ণ নয়, কোনও বিশেষ ধর্ম নয়। এই ভারতে ঐক্যের কথা বলে। এরকমই ভাবনা নিয়ে ক্যাডবেরি ইন্ডিয়া তৈরি করল স্বাধীনতা দিবসের জন্য বিশেষ চকোলেট বার। নাম দেওয়া হয়েছে ইউনিটি। এই ইউনিটি চকোলেট বারের বিশেষত্ব খাওয়ায় নয়, দেখায়। ঠিকই শুনেছেন।

অন্যান্য ক্যাডবেরি চকোলেট বারের থেকে আলাদা কিছু খেতে নয় এই ইউনিটি বার। কিন্তু এর মোড়কে রয়েছে বিশেষত্ব। ক্যাডবেরি লেখা রয়েছে সাধারণ ভাবেই। তার নীচে লেখা ইউনিটি। এই ইউনিটি শব্দে জোর দিয়েছে সংস্থাটি। হালকা রং থেকে গাঢ় রং দিয়ে তৈরি করে হয়েছে এর অক্ষরগুলিকে।

যাতে বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া যায়। ভারত বর্ণের বৈষম্যে বিশ্বাসী নয়, এর আত্মা, এর বিবেক মানবতার কথা বলে। সেই বার্তাকে এখানে ইউনিটি শব্দে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এরই সঙ্গে এর স্বাদে কিছুটা নতুনত্ব আনতে চেয়েছে ক্যাডবেরি।

এই চকোলেটের মধ্যে মিল্ক চকোলেট, ডার্ক চকোলেট, ব্লেন্ডেড ও হোয়াইট চকোলেটের মিশ্রণ রাখা হয়েছে। একই চকোলেট বারের মধ্যে এই চারটির মিশ্রণ বর্ণ বৈষম্যের প্রতিবাদ বলেই চকোলেটপ্রেমীরা মনে করছেন। ভারতের মধ্যে বহু বর্ণের মানুষের বাস, তাঁরা সবাই সমান। কেউ ছোট বড় নন।

বলতে চেয়েছে ক্যাডবেরি, তাঁদের ইউনিটি বারের মধ্যে দিয়ে। চকোলেটপ্রেমীরা বেশ পছন্দ করেছেন চকোলেটের ইউনিটি বারকে। তাঁদের মতে এই ধরণের বার্তা দিয়ে সামাজিক মূল্যবোধ বাড়াচ্ছে ক্যাডবেরি। দেশের স্বাধীনতা দিবসে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার এই উপায় চকোলেটপ্রেমীদের পছন্দ হয়েছে।

এই ইউনিটি লেখার নীচে রয়েছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ছবি। যারা একে অপরের হাতে হাত ধরে মানব বন্ধন করে রেখেছেন, যা ঐক্যের প্রতীক। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ভারতের মত দেশের মূল মন্ত্র। সেই মন্ত্রকেও ক্যাডবেরি নিজের চকোলেট বারের মোড়কে তুলে ধরেছে।

লিমিটেড এডিশনের এই ক্যাডবেরি বিকিয়েছে ভালোই। এর আগেও এই ধরণের বার্তা দিয়েছে ক্যাডবেরি ইন্ডিয়া। ডেয়ারি মিল্কের লোগো তুলে ক্যাডবেরি ধন্যবাদ দিয়েছিল করোনা যুদ্ধে সামিল ফ্রন্ট ওয়ারিয়রদের। ৮ রকম ভাষায় ধন্যবাদ দিয়েছিল ক্যাডবেরি ইন্ডিয়া।

যাতে যখনই আপনি চকলেট খেতে যান, আপনার মনে পড়ে সেইসব মানুষগুলোর কথা, যারা আপনার নিরাপদ জীবনের জন্য এই করোনা আবহে নিজেদের জীবন বাজি রাখছেন। তাঁরা কেউ চিকিৎসক, কেউ নার্স, কেউ স্বাস্থ্যকর্মী, কেউ বা সাংবাদিক, কেউ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহকারী, কেউ পুলিশ কর্মী।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা