নয়াদিল্লি: অনেক সময় শোনা যায় টাকার অভাবে আবাসন নির্মাণের কাজ থমকে গিয়েছে৷ আর মাথায় হাত পড়ে ক্রেতাদের৷ কিন্তু সেই সমস্যা মেটাতে রীতিমতো সক্রিয় এবার মোদী সরকার৷

ওই সব থমকে যাওয়া আবাসন প্রকল্পের প্রোমোটারদের সহায়তা করতে দু’মাস আগেই ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। যদিও সেই সঙ্গে কিছু শর্ত আরোপ করায় কাজের কাজের কিছু হচ্ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে৷এবার সেই ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল মোদী সরকার কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হল প্রাথমিক ভাবে ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিকল্প লগ্নির তহবিল গড়া হবে।

এই তহবিলের ১০ হাজার কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র। বাকি অর্থ আসবে স্টেট ব্যাংক এবং এলআইসি-র কাছ থেকে।তাছাড়া ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেনশন তহবিলও এতে টাকা ঢালতে পারে। টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া আবাসন প্রকল্পে ঋণ বাবদ অর্থ জোগানো হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বরই যখন আবাসন শিল্পকে চাঙ্গা করতে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তখন দুটি শর্ত আরোপ করা হয়ে ছিল৷ সেগুলি হল- যে সব প্রকল্প ব্যাংক ঋণ শোধ করতে না পেরে অনুৎপাদক সম্পদে পরিণত হয়েছে অথবা যে সব প্রকল্প দেউলিয়া ঘোষণা করে জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হয়েছে৷ এই দুটি ক্ষেত্রেই তহবিলের সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এবার এই শর্ত দুটি তুলে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের আশা, এরফলে ফ্ল্যাট বুক করে, টাকা জমা দিয়ে দিনের পর দিন তা না পেয়ে বসে থাকা মানুষগুলির সুবিধা হবে৷ পাশাপাশি উপকৃত হবেন টাকার অভাবে বন্ধ হওয়া আবাসন প্রকল্পের প্রোমোটার তথা আবাসন নির্মাণকারী সংস্থাগুলি।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর হিসেবে অনুসারে, এরফলে দেশে ১৬০০-র বেশি অসম্পূর্ণ আবাসন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারা যাবে৷ যার ফলে গোটা দেশে প্রায় ৪.৫৮ লক্ষ অসম্পূর্ণ ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ শেষ করে তা ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে।

মূলত মধ্যবিত্তের জন্য তৈরি আবাসন প্রকল্পগুলিই এর সুবিধা পাবে৷ দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, পুণে, হায়দরাবাদে ১.৫ কোটি টাকার কম দামের ফ্ল্যাটের প্রকল্পে এই সুবিধা পাওয়া যাবে৷ তবে মুম্বইয়ে জন্য ২কোটি টাকার কম দামের ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য শহরের জন্য ১ কোটি টাকার কম দামের ফ্ল্যাটের আবাসন এই তহবিলের আওতায় পড়বে৷

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর আশা, এই থমকে যাওয়া আবাসন প্রকল্পগুলি কাজ শুরু করলে তার ইতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনতিতে পড়বে৷ এই কাজ শুরু হলে একদিকে যেমন সিসেন্ট, লোহা ইত্যাদি ক্ষেত্র যেমন চাঙ্গা হবে তেমনই আবার কিছুটা কর্মসংস্থানই সৃষ্টি হবে৷

তবে এরপরও কেন্দ্রের এমন উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ বিশেষত এলআইসি এবং স্টেট ব্যাংক যে টাকা ঢালবে তার নিরাপত্তা নিয়ে৷ যদি্ও অর্থমন্ত্রক আশাবাদী টাকা ফেরত হবে বলেই৷ তাছাড়া কোনও প্রকল্পে টাকা ঢালা উচিত হবে কি হবে না তা খতিয়ে দেখে নেবে পেশাদার সংস্থা এসবিআই ক্যাপ৷