গুয়াহাটি ও আগরতলা: নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার আগে থেকেই হুঁশিয়ারি ছিল উত্তর পূর্বাঞ্চল স্তব্ধ করে দেওয়ার। নেসো অর্থাৎ নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের এই হুমকির প্রভাব দেখা যাচ্ছে, উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে। বিশেষ করে উত্তপ্ত হয়েছে অসম ও ত্রিপুরা।

এই অসমেই সম্প্রতি লাগু হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনীর চূড়ান্ত তালিকা। তাতে অ-অসমীয়াদের হটাতে বিশেষ করে যারা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী তাদের নাম কাটা পড়েছে বলা হয়। কার্যত দেখা গিয়েছে, এই তালিকায় লক্ষ লক্ষ হিন্দুদের নাম বাদ পড়েছে। সেই সঙ্গে নাম কাটা গিয়েছে অসমবাসী ভূমি সন্তানদেরও।

তারই মাঝে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল লাগু পাশ করিয়ে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে তীব্র বিক্ষোভের মুখে বিজেপি। এতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির হিন্দুদের ভারতে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আর অ-হিন্দুদের কোনও সুযোগ নেই।

বিরোধীদের অভিযোগ, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতাকে লঙ্ঘন করে বিজেপি ধর্মীয় রাষ্ট্র তৈরির লক্ষ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি এনেছে। তাকে আইনে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে বিলের প্রতিবাদে রবিবার রাত থেকেই উত্তপ্ত অসমের ডিব্রুগড়। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা বিশাল মশাল মিছিল করেন। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের চাপানো নাগরিকত্ব বিল সংশোধনী দেশজুড়ে বিভেদের হাওয়া ছড়িয়ে দিচ্ছে দ্রুত।

অন্যদিকে নেসো যে বনধের ডাক দিয়েছে তার জেরে অসমের বিভিন্ন এলাকায় বনধ সমর্থনকারীরা রাস্তায় নেমে অবরোধ করছেন। ডিব্রুগড় উত্তপ্ত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, অসমে নাগরিকপঞ্জিকরণ নিয়ে প্রবল অসন্তুষ্ট রাজ্য বিজেপি। বিরাট পরিমাণে হিন্দুদের নাম বাতিল হওয়ায় খোদ বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারই বিপাকে পড়েছে। কারণ, তাদের যুক্তি ছিল, এনআরসি-তে কোনও হিন্দুর নাম বাতিল হবে না।
তার মাঝে দেশজুড়ে এনআরসি দাবিতে অনড় কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবাদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করানোয় ক্ষোভের আগুন উসকে উঠেছে। গুয়াহাটি সহ অন্যত্র বনধ সমর্থনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা হয়। জনজীবনে প্রভাব পড়ছে বনধের।

অসমের বাংলাভাষী এলাকা কাছাড়, হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জের বনধের বড় প্রভাব পড়েছে। কাছাড়ের প্রধান শহর শিলচরেও বনধ। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের কুশপুতুল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ধেমাজি-তে বিরাট প্রভাব পড়েছে বনধের। রেল লাইন অবরোধ করা হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় নেমে অবরোধে সামিল পড়ুয়ারা। রাজ্যের সর্বত্র চলছে প্রতিবাদ। কংগ্রেসর তীব্র সমালোচনা করছে সরকারের অবস্থানের।

ত্রিপুরার পরিস্থিতিও উত্তপ্ত। এখানে সরাসরি বনধ সমর্থনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের হাতাহাতি হয়েছে। আগরতলারা রাস্তায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে জমায়েত ও বনধ পালন করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।

ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় তাদের জোট শরিক আইপিএফটি-এর সঙ্গে এমনিতেই বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ চলছে। বিরোধী সিপিআইএমের অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী এনে দেশ ও রাজ্য জুড়ে তীব্র বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি করেছে বিজেপি।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যেও ছড়াচ্ছে ক্ষোভ। নেসো অর্থাৎ নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের বিরাট প্রভাব রয়েছে উত্তর পূর্বের মনিপুর, মেঘলায়, নাগাল্যান্ড ও মিজোরামে। বিভিন্ন উপজাতি সংগঠনের এই যৌথ মঞ্চের আন্দোলন হিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও