নয়াদিল্লি: ফের সাফল্য বিজেপি শিবিরের। লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে গেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। বুধবার রাজ্যসভায় এই বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে বিতর্ক।

রাত ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ভোটাভুটিতে বিল পাশ হয়ে যায়। পক্ষে ভোট পড়েছে ১২৫টি ও বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১০৫টি। স্বাভাবিকভাবেই ৩৭০-এর পর আরও একটি সাফল্য অমিত শাহের।

এই বিল অনুযায়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্রিশ্চান, জৈন সহ সংখ্যালঘুরা প্রয়োজনে ভারতে নাগরিকত্বের দাবি জানাতে পারবেন। গত সোমবারই লোকসভায় পাশ হয়েছে এই বিল।

লোকসভাতেই বিরোধীদের জবাব দিয়ে অমিত শাহ জানিয়ে ছিলেন, ভারতীয় মুসলিমদের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। ভারতে বসবাসকারী মুসলিমরা সম্মানের সঙ্গেই বাঁচতে পারবেন। বিভেদ তৈরি করার জন্য এই বিল আনা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজ্যসভা থেকেও বিরোধীদের এদিন একই কথা বলেন তিনি।

এদিন, পরিসংখ্যান দিয়ে অমিত শাহ উল্লেখ করেছেন যে, মোদী সরকারের আমলে ৫৬৬ জন মুসলিম শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেস নেতাদের জবা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হিন্দু বাদে শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, ক্রিশ্চান – এতগুলি ধর্ম রাখা হয়েছে, তা সত্বেও কেন নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। শুধু মুসলিমদের নাম নেই মানেই এটা নিরপেক্ষতা নয়?’

লোকসভায় এই বিলের সমর্থনে ভোট পড়ে ৩১১ টি ও বিপক্ষে ৮০টি। সেখানে কংগ্রেস, তৃণমূল সব সব বিরোধী দলের তরফেই এই বিলের বিরোধিতা করা হয়। পরে সব প্রশ্নের জবাব দেন অমিত শাহ। রাজ্যসভাতেও দিনের শেষে সব বিরোধীদের জবাব দিয়েছেন তিনি।

এদিন রাজ্যসভায় অমিত শাহ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান- তিনটিই মুসলিম দেশ। ফলে, সেখানে মুসলিমদের সঙ্গে অবিচার হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে, এই বিলে তাঁদের কথা বলা হয়নি। বদলে ওইসব দেশে যাঁরা সংখ্যালঘু, সেই হিন্দু, ক্রিশ্চান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈনদের নাম লেখা হয়েছে। তবে কোনও মুসলিমের সঙ্গে অবিচার হলে, তাঁদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি