গুয়াহাটি: রক্তাক্ত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস ঘিরে প্রবল অসন্তোষের মুখে পড়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মোহন্ত। তাঁর দল অসম গণ পরিষদ (অগপ) সরকারের শরিক। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রফুল্ল মোহন্ত অহম জাতি আবেগের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

একইসঙ্গে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা ( স্বাধীনতা) কমান্ডর ইন চিফ পরেশ বড়ুয়ার হুমকি, প্রফুল্ল মোহন্ত বিশ্বাসঘাতক। মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতার তরফে এমন হুমকির পরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

তবে রাজ্যসভায় অগপ সাংসদ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের পক্ষে ভোট দেওয়ায় বিক্ষোভকারীদের প্রবল রোষের মুখে পড়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল মোহন্ত। তিনি বলেছেন, দ্রুত দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার ছাড়ার কথা জানাবেন। অসমে দু বারের মুখ্যমন্ত্রী তিনি।

১২৬ আসনের অসম বিধানসভায় তাঁর দল অগপ বিধায়ক সংখ্যা ১৪ জন। বিজেপির সঙ্গে জোট করে সরকার চালাচ্ছে অগপ। তারা সরকার ছাড়লে অনেক সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনীর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়েছেন অগপ নেতা-বিধায়করা। কোনওরকমে পালিয়ে বাঁচেন অনেকে। সেই ছবি ছড়িছে সর্বত্র। পরিস্থিতি দেখে অগপ প্রধান প্রফুল্ল মোহন্ত জানিয়েছেন অসমের আবেগ সর্বাগ্রে।

নাগরিকত্ব বিল আইনে পরিণত হয়েছে। আর বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে রয়েছে অসম। তবে রাজপথের রক্তাক্ত ছবি নেই শুক্রবার। বলবৎ রয়েছে কার্ফু। তারই মাঝে নতুন বিতর্ক, এবার ঘেরাও করে রাখা হল অসমের বিজেপি সভাপতি রণজিৎ দাসের বাড়ি।

জানা গিয়েছে উত্তেজিত জনতাকে দেখে প্রবল ভীত হয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন রণজিৎ দাস। তাঁর ছবিতে জুতোর মালা পরিয়ে বিরাট মিছিল করে বিক্ষোভকারীরা। পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতির বাড়ি ঘেরাও করে রাখা হয়।

এর আগে একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ আক্রান্ত হয়েছেন।গুয়াহাটির বিমানবন্দরে বিক্ষোভকারীরা ঘেরাও করে রেখেছিল মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালকে। পরে তাঁর বাড়িও ঘেরাও হন। আক্রান্ত হন বিজেপি বিধায়ক আঙুরলতা ডেকা সহ অনেকেই।