লখনউ: দেশের মধ্যে প্রথম যোগীরাজ্যে শুরু শরণার্থী চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া। নাগরিকত্ব আইনের প্রয়োগ শুরু হয়ে গেল উত্তরপ্রদেশে। ইতিমধ্যেই যোগী আদিত্যনাথের সরকার রাজ্যে হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি এবং খ্রিস্টান শরণার্থীদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে। শরনার্থীদের চিহ্নিত করার পর তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজও শুরু হবে বলে উত্তরপ্রদেশ সরকার সূত্রে খবর। শরনার্থীদের চিহ্নিত করার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করে রাজ্য প্রশাসন।

নাগরকিত্ব আইন নিয়ে দেশজুড়ে কেন্দ্র-বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল প্রতিবাদে সামিল হয়েছে। নাগরিকত্ব আইন তৈরি করে কেন্দ্র বিভাজনের রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতারা। ইতিমধ্যেই বিজেপি বিরোধী একাধিক রাজ্য এই আইনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজ্যে কোনওভাবেই নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করবেন না বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও নাগরিকত্ব আইন সেরাজ্যে চালু করবেন না বলে জানিয়েছেন। এরই পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান-সহ কয়েকটি রাজ্যও এই ইস্যুতে কেন্দ্র বিরোধিতায় সামিল।

নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দাবিতে লাগাতার আন্দোলনেরও ডাক দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি ইস্যুতে কেন্দ্র বিরোধিতায় পথে নেমেছে পড়ুয়াদের একাধিক সংগঠন। বহু ক্ষেত্রে আন্দোলনে নেমে পুলিশের সঙ্গেও ধস্তাধস্তি করতে দেখা যাচ্ছে পড়ুয়াদের।

আর এই আবহের মধ্যেই এবার যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে চালু হল নাগরিকত্ব আইনের প্রত্রিয়া। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ মহল থেকে এব্যাপারে জেলাশাসকদের কাছে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনগুলিকে। দেশের একাধিক রাজ্যে বহু মানুষজন বছরের পর বছর ধরে থেকে গেলেও তাঁরা এখনও নাগরিকত্ব পাননি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত-সহ উত্তরপ্রদেশেও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষজন এসে দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন বলে দাবি। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ-সহ হাপুর, রামপুর, শাহজাহানপুর, নয়ডা ও গাজিয়াবাদে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ এসে দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন। এবার তাঁদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু করল যোগী সরকার। শরণার্থী হিসেবে কেউ চিহ্নিত হলেই তাঁকে নাগরিকত্ব দিতে সচেষ্ট হয়েছে রাজ্য সরকার।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ