ওয়াশিংটন: ভোটে জিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারলে তিনি আমেরিকায় কাজ করার জন্য বিদেশি নাগরিকদের ‌জন্য এইচ ওয়ানবি ভিসা চালু করবেন। এমনটাই ঘোষণা করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী তথা প্রাক্তন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ ওয়ান বি ভিসা সহ আরো কয়েকটি ভিসা যার দ্বারা বিদেশীরা মার্কিন মুলুকে কাজ করতে পারেন সেগুলি দেওয়া ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

সম্প্রতি করোনা সংকট দু’ভাবে ধাক্কা দিয়েছে আমেরিকাকে। একদিকে এই মারন ভাইরাসের কারণে দেশজুড়ে মৃত্যু-মিছিল দেখা গিয়েছে অন্যদিকে আবার লকডাউন জারি করায় চরমভাবে বিপর্যস্ত অর্থনীতি। আর্থিক পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে সেখানে ৪০ লক্ষের বেশি লোক কাজ হারিয়েছেন। সামনে ভোট অন্যদিকে দেশের মানুষ চাকরির জন্য অস্থির হয়ে পড়ছে। তাই নাগরিকদের চাকরির ব্যবস্থা করতে কাজের ভিসার ব্যাপারে কড়া ব্যবস্থা নেন ট্রাম্প। এর ফলে মার্কিনীরা দেশে ৫ লক্ষ ২৫ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে আবার ট্রাম্প প্রশাসনের এহেন সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছেন সেই সব বিদেশি নাগরিকরা যারা এইচ ওয়ান বি সহ ঐরকম ভিসা নিয়ে মার্কিন মুলুকে কাজের জন্য যেতে চান। এদের একটা বড় অংশ হলেন ভারতীয় তথ্য-প্রযুক্তি কর্মীরা। তারা মূলত এইচ ওয়ান বি ভিসা নিয়ে আমেরিকায় যান। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান সিদ্ধান্ত এইরকম অনেক ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

এই সময় আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হলেন এই জো বাইডেন। তিনি আবার একেবারে ট্রাম্পের ভিন্ন সুরে কথা বললেন। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প বছরের বাকি সময় নতুন করে এইচ ওয়ান বি ভিসা দেবে না বলেছে। কিন্তু বাইডেন ক্ষমতায় এলে এমন আইনটাই তুলে দেবেন। তার বক্তব্য,এইচ ওয়ান বি ভিসা দেওয়া হবে বিদেশি নাগরিকদের যারা এতদিন এই বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন কারণ তাদের জন্য আমেরিকার ভালো হয়েছে।

বাইডেন আরও জানিয়েছেন, তিনি ক্ষমতায় আসার প্রথম দিনেই কংগ্রেসে অভিবাসন সংক্রান্ত বিলটি আনবেন। যে এক কোটি ১০ লক্ষ অভিবাসী স্বীকৃতি না পেয়ে আমেরিকায় রয়েছেন, যাদের দ্বারা আমেরিকা উপকৃত হয়েছে এবং হয়ে চলেছে, এই আইন সংশোধন করার মাধ্যমে তারা উপকৃত হবেন। শুধু তাই নয় তিনি চান তার জমানায় আমেরিকার অভিবাসন আইনকে বদলাতে এবং আরো আধুনিক করে তুলতে। তার নজর, সংশোধিত আইন এমন হবে যাতে ওই অভিবাসীদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে না হয়।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ