শেখর দুবে, কলকাতা: এম কে স্টালিন, এইচ ডি দেবেগৌড়া, এই ডি কুমারস্বামী, শরদ যাদব, অজিত সিং, ফারুখ আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা, অখিলেশ যাদব, অরবিন্দ কেজরীবাল, অর্জুন খাড়গে,তেজস্বী যাদবের মতো নেতারা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছেন এ দৃশ্য শেষ চার দশকে বাংলার রাজনীতি দেখেনি। ১৯ জানুয়ারি তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশের পর অনেকেই ভেবেছিলেন জাতীয় রাজনীতিতে এবার নির্ণায়ক ভূমিকা নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

লোকসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সমীক্ষা তুলে ধরছে অন্য তথ্য৷ ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেড থেকে ওঠা হাওয়া গতি পাওয়া তো দূর নিজের রাজ্যেই বিজেপির বৃদ্ধ মেনে নিতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ গত ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য থেকে দুটি লোকসভা সিট জিততে পেরেছিল বিজেপি৷ অথচ ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের করা জনমত সমীক্ষায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যমগুলি বাংলায় বিজেপির ১০টিরও বেশি আসন পাওয়ার কথা জানাচ্ছে৷

শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী এবং যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘‘ বিজেপির প্রতি মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়েছে৷ প্রাকনির্বাচন সমীক্ষায় তারই প্রভাব পড়েছে৷ নির্বাচনের পর ফল আরও ভালো হবে৷ ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডে আসলে কিছু বন্যার মুখে পড়া পিঁপড়েরা জোট বেঁধে নদী পেরনোর চেষ্টা রেছিল৷ যা নরেন্দ্র মোদী নামক বন্যায় ভেসে গেছে৷’’

এরপর মহাজোটকে কটাক্ষ করে দেবজিৎ বলেন, ‘‘আসলে এই লড়াইটা চেয়ার বনাম চাটাইয়ের লড়াই৷ আমরা নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ করে নির্বাচনে লড়ছি৷ ওরা একটা চাটাইয়ে ২১জন বসে ভাগাভাগি করছে৷ কে কখন মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে তার ঠিক নেই’’৷

২০১৪ সালে মোদী বনাম মমতা যে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছিল তা ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেড মঞ্চে যেন পূর্নতা পেয়েছে৷ এই ব্রিগেড কতটা সফল তা ২০১৯-এর মে মাস বলবে। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদি সরকার যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা সেই সময় দাঁড়িয়ে অনেকাংশেই সফল বলে মনে হয়েছিল৷]

যদিও ছবিটা পাল্টাতে শুরু লোকসভা ভোট আসতে আসতে৷ চিটফান্ডে নাম জড়ানো কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারকে সিবিআই জেরার বিরোধিতা করে প্রথমে কলকাতা মেট্রো চ্যানেল ও পরে দিল্লিতে কেন্দ্র সরকার বিরোধী ধরনাতে বসেন মমতা৷ সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন কেজরিবাল , তেজ্বসী যাদবের মতো অন্যান্য রাজ্যের নেতারা৷

ওই সময় পর্যন্ত নিজেকে সামনে রেখে মোদী বিরোধী দলগুলির একজোট হওয়ার বার্তা অনেকটাই দিতে পেরেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন ঘোষিত মহাজোটের পথে হাঁটতে পারেনি মোদী বিরোধীরা৷ ঠিক এই জায়গাটিতেই সাধারণ মানুষের কাছে মোদী সরকারের বিকল্প হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেননি মমতা , অখিলেশ, তেজস্বী, কেজরীওয়ালরা৷ এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের৷

১৪ ফেব্রুয়ারী কাশ্মীরের পুলওয়ামা সন্ত্রাসবাদী হামলায় ৪০জন সিআরপিএফ জওয়ানদের মারা যায়৷ এই হামলার ১২দিনের মাথায় পাকিস্তানের বালাকোট সেক্টরেজইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতীয় বায়ু সেনার এয়ার স্ট্রাইক দেশের মানুষকে মোদী সরকারের প্রতি আবারও আস্থাবান করেছে৷ স্বাভাবিকভাবেই ১৯ জানুয়ারির মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সবুজ ঝড় তুলতে চেয়েছিলেন তা অনেকটাই স্তিমিত৷

যদিও সমীক্ষা বা বিজেপির দাবিকে উড়িয়ে দিচ্ছে তৃণমূল শিবির, হাওড়ার দু’বারের সাংসদ প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবারেও তৃণমূলের টিকিটে হাওড়া থেকেই লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন৷ তাঁর সাফ কথা, ‘‘ভোটের আগে ওরকম হাজার সমীক্ষা হয়৷ বাংলার সঙ্গেই সারা ভারতের সাধারণ মানুষের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
উন্নয়নে ভরসা খুঁজে পাচ্ছেন৷ আমার স্থির বিশ্বাস এবারে প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী পাবে দেশ৷’’