Mamata Banerjee
ফাইল ছবি।

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এটা যদি ক্যাচ লাইন হয়, তাহলে সংলাপ কার হবে? রবিবারের ব্রিগেডে, বিজেপির তারকা আকর্ষণ নরেন্দ্র মোদীর পাশে যদি এই সংলাপের প্রথম উচ্চারক এমএলএ ফাটাকেষ্ট, থুড়ি মিঠুন চক্রবর্তী থাকেনও, তাহলেও শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ‘অ্যাডভান্টেজ’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লিখলেন– সুমন ভট্টাচার্য

তৃণমূল নেত্রী শুধু এক ঝটকায় ২৯১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেননি, বিপক্ষকে মানসিক চাপেও ফেলে দিয়েছেন। এই নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি এখনও পর্যন্ত সব আসন তো দূরের কথা, প্রথম দু’দফার ৬০টি আসনের প্রার্থীর নামও ঘোষণা করতে পারেনি। রবিবার বিজেপি যদি ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে ৬০টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা্ও করে, তাহলেও বাকী ২৩৪টি আসনের জন্য গেরুয়া শিবির পিছিয়ে থাকবে।

আর ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা বামেরা কংগ্রেস এবং আব্বাস সিদ্দিকিকে সঙ্গে নিয়েও শুক্রবার পর্যন্ত প্রথম দুই দফার ৬০টি আসনে সব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ফ্রন্টফুটে’ গিয়ে নন্দীগ্রামে তিনি-ই প্রার্থী হচ্ছে জানিয়ে দেবার পরেও জোট সেই রণাঙ্গনে নিজেদের সেনাপতির নাম জানাতে পারেনি।

কিন্তু শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এগিয়ে রাখতে হচ্ছে? তার কারণ সিনেমার মতই রাজনীতিতেও ‘কয়েনেজ’ জরুরি। আর সেই ক্ষেত্রে তৃণমূল নেত্রী যে এখনও টলিউডের আচ্ছা আচ্ছা সংলাপ লেখক বা পরিচালককে ‘গোল’ দিতে পারেন, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন বেহালা পূর্বে রত্না চট্টোপাধ্যায় নাম ঘোষণার সময়। ‘নারী সুরক্ষা’-র জন্যেই যে তিনি বেহালা পূর্বে, অর্থাৎ কলকাতার প্রাক্তন মেয়র এবং তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ছেড়ে যাওয়া আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভন-জায়া রত্না চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করছেন, সেটা যেরকম মুচকি হেসে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, তাতে শোভন-বৈশাখীর জন্য বাড়তি চাপ তো তৈরি হয়ে গেলই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে এবার শোভন চট্টোপাধ্যায় বা তাঁর ‘বান্ধবী’ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বেহালাতে প্রার্থী হোন কি না, সেটাই এখন দেখার। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে এটা পরিষ্কার, এই বিধানসভা নির্বাচনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে সরাসরি লড়াই হিসেবেই নিয়েছেন। তাই নিজের কেন্দ্র হিসেবে যেমন বেছে নিয়েছেন নন্দীগ্রামকে, যা শুধু শুভেন্দু অধিকারীর আগের কেন্দ্র নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গোটা ভারত জুড়ে যখন কৃষক আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি বিব্রত, ঠিক সেই সময় জমি আন্দোলনের জন্য, বা আরও পরিষ্কার করে বলতে গেলে কৃষক আন্দোলনের জন্য পরিচিত নন্দীগ্রামকে নিজের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, তিনি নির্বাচনে কোন কোন ইস্যুগুলিকে সামনে আনতে চান। কৃষক-স্বার্থ রক্ষা এবং নিজেকে ‘গরিব’-দের বন্ধু এবং বিজেপিকে ‘বড়লোক’-দের পার্টি হিসেবে দেগে দিয়ে তিনি যে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছেন, তা পরিষ্কার।

বিজেপি যেখানে পাঁচ রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তত নির্বাচনটি শুরু করলেন কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা নিয়ে। নিজেকে নন্দীগ্রামে নিয়ে গিয়ে, রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বেহালা পূর্বে মনোনয়ন দিয়ে এবং একঝাক তারকাকে কঠিনতম আসনগুলিতে লড়তে পাঠিয়ে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী প্রমাণ করেছেন, তিনি লড়াইতে একচুলও জমি ছাড়তে রাজি নন।

ভাঙরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে তিনি শুধু রেজ্জাক মোল্লাকে বাদ দেননি, বা আরাবুল ইসলামকেও তালিকার বাইরে রাখেননি, প্রার্থী করেছেন গত লোকসভা নির্বাচনে সিপিএমের তারকা প্রার্থী এবং চিকিৎসক নেতা রেজাউল করিমকে। আমাদের মনে রাখতে হবে রেজাউল করিম বা সায়নী ঘোষের মতো যাঁরা কিছুদিন আগে পর্যন্ত বাম-শিবিরের তারকা বক্তা ছিলেন, কিংবা চোখাচোখা বাক্যবাণে মমতাকে বিঁধতেন, বিজেপির বিরুদ্ধে এই ‘মহাযুদ্ধ’-এ তাঁরা কিন্তু সবাই মমতাকেই সেনাপতি মেনে নিয়েছেন। আর তৃণমূল নেত্রীও তাঁদের যোগ্য সম্মান দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে দলের হয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন।

শুক্রবারের সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা যেভাবে ‘বিজেপিকে একটি ভোটও নয়’, এই স্লোগানকে যৌক্তিকতা দিয়েছেন, এবং গোটা লড়াইটার আদর্শগত এবং কৌশলগত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছেন, তাতে তৃণমূল নেত্রীকে বাহবা দিতেই হচ্ছে। এই লড়াইকে তিনি একদিকে যেমন গরিবদের স্বার্থ রক্ষার লড়াই, তেমনই বিজেপিতে গুরুত্ব পেতে থাকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ‘চরিত্র’-দের চাঁদমারি করে মহিলাদের সম্মানের বিষয়টিকেও সামনে এনে দিয়েছেন।

হয়তো মমতাকে এই বিষয়ে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়েছে, প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’, এই প্রচারভিযানের পাল্টা মন্তব্য করতে গিয়ে বাবুল সুপ্রিয় বা রুদ্রনীল ঘোষদের বেফাঁস কথাবার্তা, যা আসলে নারীদের যথার্থ সম্মান দেয় না। শুক্রবার রাত পর্যন্ত তাই ‘অ্যাডভান্টেজ’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামকে রণাঙ্গন হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি আসলে বুঝিয়ে দিয়েছেন, সম্মুখ সমরে তিনি কতটা সাংঘাতিক প্রতিপক্ষ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।