স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: বক্সা দুর্গের কাছেদূরে রয়েছে মোট ১৩ টি গ্রাম। সেই সব গ্রামে বাস করেন প্রায় ৫০০০ মানুষ। এক সময় এখনকার রাস্তাঘাট ছিল খুবই সুন্দর। ইংরেজ আমলে বক্সা দুর্গই ছিল রাজবন্দিদের নিবাস। ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ ঘোষণা হয়েছে বহু দিন আগেই। তার ৩৮ বছর পরেও বক্সা রাজবন্দি নিবাস সংস্করণের কাজ শুরু হয়নি। সমতল থেকে ২৬০০ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত এই দুর্গটি বর্তমানে কোনও রকম ভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ধুঁকছে। সংস্কার বলতে বসেছে শুধু বাইরে লোহার গেট।

স্বাধীনতার ৭২ বছর পরেও বক্সা দুর্গ ব্রাত্য রয়ে গিয়েছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রের জয়ী প্রার্থী জন বারলা ১৫ আগস্ট গিয়েছিলেন সেখানে। স্থানীয় মানুষদের অভাব অভিযোগ শুনে আসেন তিনি। সেখানে নেই স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র। রাস্তাঘাট বেহাল বলে বাইরে থেকে পড়াতে যেতে পারেন না কোনও শিক্ষক। সব মিলিয়ে এই ১৩ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ রয়ে গিয়েছে অন্ধকারে।

সেখান থেকে ফিরে এসে আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলেন সাংসদ জন বারলা। ঠিক তারপরেই অর্থাৎ সোমবার বক্সা পাহাড় পরিদর্শনে যান আলিপুরদুয়ারের সুরেন্দ্রকুমার মিনা। তাঁকে কাছে পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে পাহাড়বাসী। যদিও প্রতিশ্রুতির পাহাড়ে বহুবার উন্নয়নের কথা ঘোষণা হলেও কোনও রকম কাজ শুরু হয়নি।

জানা গিয়েছে, সান্তালাবাড়ি থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত নতুন রাস্তা বানানো হবে। তার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। এই খবরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি পাহাড়বাসী। ফি বছর বর্ষার মরশুমে পাহাড়ি রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ে। সেই সময় পাহাড়ে ওঠা নামায় প্রচণ্ড অসুবিধে হয় স্থানীয় মানুষদের। নতুন রাস্তা নির্মাণ হলে এই কষ্ট থেকে রেহাই পাবেন গ্রামবাসীরা।

অন্যদিকে, পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ বাড়াতে বক্সা পাহাড়কে নতুন ভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে সরকারি ভাবে। পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে বাঁকে পর্যটকদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বসার জায়গা তৈরি করা হবে। বক্সা দুর্গের সৌন্দর্যায়ণ হলে এই এলাকায় পর্যটকদের ঢল নামবে বলেই মনে করছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।