মালদহ: নির্বাচনের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মালদহে পাথর রফতানি বন্ধ ছিল৷ কিন্তু ২৩ এপ্রিল নির্বাচনের পরেও পাথর রফতানি চালু হয়নি৷ তাই মহদীপুর এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাথর রফতানি চালু না হলে তারা অন্যান্য পণ্য সামগ্রী রফতানি বন্ধ রাখবে এবং বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে৷

প্রায় এক মাস ধরে মহদীপুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমান্ত দিয়ে বন্ধ রয়েছে পাথর রফতানি৷ এতেই চরম সমস্যায় পড়েছেন মহদীপুর এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই সংগঠনের রফতানিকারকেরা।

তাঁরা জানান, ভোটের কথা বলে বাংলাদেশে পাথর রফতানির কাজ প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের জন্য পাথর রফতানি করতে না করা হয়েছিল। ২৩ এপ্রিল নির্বাচন পেরিয়ে গেলেও এখনও পাথর রফতানি করার কোনো অনুমতি দেওয়া হয় নি। এমনকি ইংরেজবাজার থানার পুলিশের পক্ষ থেকেও পাথর রফতানিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে পাথর রফতানির চালু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কথা জানিয়েছেন ওই সংগঠনের শতাধিক ব্যবসায়ীরা।

মহদীপুর এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক তপন কুমার দাস জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর তৈরির কাজ চলছে। সে ক্ষেত্রে ভারত থেকে প্রতিনিয়ত পাথর রফতানি হচ্ছে। প্রতিদিন ২০০’র বেশি লরি বাংলাদেশ পাথর বোঝাই করে রফতানি করা হয়। প্রতিদিন এক লক্ষ ১৭ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যবসা হয়। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে ভারত সরকারও যেমন বিদেশী মুদ্রা অর্জন করে। তেমনি এই ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত লরির মালিক, চালক, শ্রমিক সহ বহু মানুষ রুজি রোজগারের করে স্বনির্ভর রয়েছেন।

তপনবাবুর অভিযোগ, হিলি, চ্যাংড়াবান্ধা, বেনাপোল-পেট্রাপোল এইসব ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে নিয়ম করেই পাথর রফতানি হচ্ছে। কিন্তু মালদহর মহদীপুর সীমান্ত দিয়ে পাথর রফতানি করতে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে ইংরেজবাজার থানার পুলিশের পক্ষ থেকেই নানা অজুহাত দেখিয়ে রফতানিতে ব্যাঘাত ঘটানো হচ্ছে। এপ্রিল মাসের শুরুতেই পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাথর রফতানি বন্ধ করে দেওয়া হয়।নির্বাচনের কথা বলেই এই রফতানি কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পাথর রফতানি করতে দিচ্ছে না। এরকম চলতে থাকলে আমাদের আন্দোলনে নামা ছাড়া কোন পথ নেই।

মহদিপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফৈয়জুল হক জানান, নির্বাচনের জন্য জাতীয় সড়কে যানজট এড়াতে পাথর রফতানি বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন পেরিয়ে গেলে পাথর রফতানি করতে দেওয়া হচ্ছে না। এরকম চলতে থাকায় চরম লোকসানের মধ্যে পড়তে হচ্ছে রফতানিকারকদের। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত রফতানিতে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হোক।

ইংরেজবাজার থানার আইসি শান্তনু মিত্র জানিয়েছেন, রফতানিকারকদের তরফ থেকে যা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। রফতানিতে পুলিশ কেন হস্তক্ষেপ করতে যাবে। এখানে পুলিশের কোন ভূমিকাই নেই। কেন তারা এরকম কথা বলছে বুঝতে পারছি না। পুলিশ পাথর রফতানির বিষয়টি কখনওই দেখে না। তবে জাতীয় সড়কে যাতে ট্রাফিক সমস্যা না হয় সেদিকে নজরদারি পুলিশের অবশ্যই থাকবে।