স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বর্ধমান শহরের রানিগঞ্জ বাজার এবং তেঁতুলতলার পাইকারী বাজারকে বর্ধমানের কৃষি খামারের কিষাণ মাণ্ডিতে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার পাল্টা হুমকি দিল পূর্ব বর্ধমান চেম্বার অফ ট্রেডার্স। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বর্ধমান ১নং ব্লকের এই কিষাণ মাণ্ডিকে চালু করা নিয়ে রীতিমত জটিলতা চলছেই। বারবার চেষ্টা চালিয়েও কিষাণ মাণ্ডিকে চালু করতে না পারায় ক্রমশই কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছে জেলা প্রশাসন।
বর্ধমানে রাজআমলের ননীবাবুর বাজার তথা পরবর্তীকালে বর্ধমানের মহারানির নামানুসারে রানির গঞ্জ যা বর্তমানে রানিগঞ্জ বাজার হিসাবে পরিচিত৷ শহরকে যানজট মুক্ত করতে এই বাজারকেই স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এবিষয়ে দফায় দফায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনাও করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা৷ যদিও বাজারকে এখান থেকে তুলে কিষাণ মাণ্ডিতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান সংশ্লিষ্ট দুটি বাজারের ব্যবসায়ীরা।

যদিও এবিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত জেলা ব্যবসায়ী সুরক্ষা সমিতি৷ সুরক্ষা সমিতির কর্মকর্তাদের একাংশ কিষাণ মাণ্ডিতে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের একাংশ ব্যবসায়ী সুরক্ষা সমিতি থেকে বেরিয়ে আসেন। এই ইস্যুতেই তৈরি হয়েছে পূর্ব বর্ধমান চেম্বার অফ ট্রেডার্স। যার অধীনে রয়েছেন প্রায় ৬০০ ব্যবসায়ী৷ এরা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান৷

সংগঠনের সম্পাদক চন্দ্রবিজয় যাদব জানান, কয়েকদিন আগে মাইকে প্রচার করা হয় যে এখান থেকে বাজারটিকে কিষাণ মাণ্ডিতে স্থানান্তরিত করা হবে। এবিষয়ে প্রশাসন শহরে লিফলেটও বিলি করে৷ কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের এই দুই বাজারের অনুমতি নেই বলে যা প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ রানিগঞ্জ বাজার ও তেঁতুলতলার বাজার সরকারী অনুমোদন প্রাপ্ত। ব্যবসায়ীরাও লাইসেন্স প্রাপ্ত। তাঁরা নিয়মিত পুরসভাকে ট্যাক্সও দেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের এই মিথ্যা ভাষণের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই৷

তিনি জানান, ‘‘আমরা কোনও অবস্থাতেই এই বাজার ছেড়ে কিষাণ মাণ্ডিতে যাব না।’’ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রবিবার কার্জন গেটের সামনে তাঁরা প্রতিবাদ সভা করেন৷ সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়েছেন, তাঁরা কোনোভাবেই কিষাণ মাণ্ডিতে যাবেন না। যদিও জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, ‘‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে৷ আমরা তাঁদের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের সময় দিয়েছি৷ যাঁরা কিষাণ মাণ্ডিতে যেতে ইচ্ছুক তাঁদের সদর মহকুমা শাসকের কাছে আবেদন করতেও বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক আবেদন জমাও পড়েছে।’’

একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘‘১ ডিসেম্বর থেকে রানিগঞ্জ বাজার ও তেঁতুলতলা বাজারকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।’’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘কোনও বড় সাজানো গোছানো শহরেই শহরের প্রাণকেন্দ্রে এভাবে বাজার থাকে না। যানজট এড়াতে এই বাজারকে সরে যেতেই হবে।’’ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ ডিসেম্বর থেকে বর্ধমান শহরে মাল বোঝাই লরি ঢুকতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের তরফে চন্দ্রবিজয় যাদব জানান, ‘‘প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ২৯ নভেম্বর মামলার শুনানি রয়েছে। সেই শুনানিতে জেলাশাসককে স্বয়ং হাজির হতে বলা হয়েছে৷’’ একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘প্রশাসন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বিসিরোডের একপাশে মঞ্চ বেঁধে লাগাতার বিক্ষোভ ও অনশনে চলবে৷’’ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুধু রানিগঞ্জ ও তেঁতুলতলা বাজারই নয়, বর্ধমান শহরের কালনা গেট বাজার, ষ্টেশন বাজার, নীলপুর বাজার, শাঁখারীপুকুর বাজার, বড়বাজার সহ সমস্ত বাজারের ব্যবসায়ীরাও লাগাতার দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ ফলে জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকছে৷