স্টাফ রিপোর্টার,তমলুক: যুগ যুগ ধরে প্রতিটি ঘরে ঘরে বোনেরা তার প্রিয় ভাইয়ের দীর্ঘায়ু এবং মঙ্গল কামনার্থে রাখি পূর্ণিমা দিনটি পালন করে আসছে। যদিও স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন রদ করার জন্যই হলুদ সুতোর বন্ধনে ঐক্য গড়ে তোলার জন্যেই রাখীর সূচনা করেছিলেন।

রাখি মানে রক্ষা বন্ধন। এই দিনটিতে তাই সমস্ত রকম ঝগড়া, খুনসুটি ভুলে বোনেরা প্রিয় ভাইদের হাতে রাখি পরিয়ে পরস্পরের মঙ্গল কামনা করে । সেই রাখি পূর্ণিমার আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দিন বাকি। প্রতিবছরের মতো রাখি প্রস্তুতকারকেরা ৫ থেকে ৬ মাস আগে থেকেই গ্রামের কারিগর দিয়েই রাখি প্রস্তুত করে থাকেন। কেউ কেউ আবার মোটা অঙ্কের কয়েক লক্ষ টাকা রাখি ব্যবসাতে ঢেলে ব্যবসা করেন।

তবে এবছর করোনা সংক্রমণের কারনে রাজ্যজুড়ে লকডাউন চলছে। মাস দুই তিনেক আগে ভিন রাজ্য থেকে বা কোলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকেরা কাজ হারিয়ে স্থানীয় এলাকায় রাখী প্রস্তুতির কাজে হাত লাগিয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউন যেন রাখি ব্যবসায়ীদের পিছু ছাড়ছে না। বেশ কয়েকমাস ধরে রাখি তৈরী করে বিক্রিই করতে পারছেন না রাখীপ্রস্তুতকারীরা।

এমনই অভিযোগ করল পূর্ব মেদিনীপুরে ময়না ব্লকের বলাইপন্ডা এলাকার প্রসিদ্ধ রাখী ব্যবসায়ী মিঠুন মাইতি ও নিমাই চাঁদ মাইতি।

স্থানীয় রানীচক গ্রামের বাসিন্দা এরা। বেশ কয়েকবছর ধরেই রাখী বানিয়ে আসছেন।স্থানীয় মানুষজনদের কাজে লাগিয়ে রাখী প্রস্তুত করে থাকেন।এবছর লকডাউন থাকার জন্য,স্থানীয় এলাকার ভিনরাজ্য থেকে কাজ ছেড়ে আসা মানুষজন এই রাখির প্রস্তুতিতে হাত লাগান।কিন্তু প্রতিনিয়ত লকডাউন ও ময়না ব্লক এলাকা বাজার বন্ধ থাকার কারনে মিঠুন বাবু বা নিমাই চাঁদ বাবুদের অস্থায়ী দোকান করলেও বলাইপন্ডা বাজারে,তা খুলতেই পারছেন না।

মিঠুন বাবু জানান,এই ব্যবসাতে প্রায় ১২ লক্ষ ১২ লক্ষ টাকা ধারদেনা করে ব্যবসায় ফেলেছিলেন। কিন্তু দোকান না খোলার জন্য ক্রেতাদের দেখা নেই।ফলে চরম সংকটে ব্যবসায়ীরা।

এছাড়াও প্রতিবছর কলকাতা সহ পূর্ব পশ্চিম মেদিনীপুর ও হাওড়া জেলায় তাঁদের রাখি সরবারহ করা হতো।এবছর এখনও পর্যন্ত কোথাও পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিঠুন বাবু আরও জানান,সরকার যদি তাদের মতো ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ান তাহলে উপকৃত হবেন তাঁদের মতো ব্যবসায়ীরা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ