সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: নাসেরবানজির পুত্র জামসেদজি টাটা একটু বড়‌ হতে তাকেও বোম্বাইতে নিয়ে আসা হলো। ভর্তি করা হল এলফিনস্টোন কলেজে। সেখান থেকে ১৮৫৮ সালে স্নাতক হন তিনি। প্রথমে এক সলিসিটর ফার্মে অ্যাপ্রেন্টিস হিসেবে কাজ শুরু করেন। এর কিছুদিন পরে বাবার ব্যবসায় যোগ দেন। নাসেরবানজি ঠিক করেন ছেলেকে ফারইস্ট পাঠাবেন বিশেষত চিনের সঙ্গে ব্যবসা দেখাশোনা করা জন্য। সেইমতো তিনি যুবক জামশেদজিকে হংকং এবং সাংঘাই পাঠালেন । নজর দেওয়া হল চিনে তুলা, আফিম রফতানির দিকে এবং চিন থেকে সিল্ক ,কর্পূর, চা, তামা, সোনা আমদানি করার দিকে।

বাণিজ্য বিস্তারের কথা ভেবে ফার ইস্টে তাদের শাখা সংস্থা গড়ে তোলা হল। সেই বাণিজ্যিক সংস্থার প্রধান অংশিদার ছিলেন‌ নাসেরবানজী, কল্যানদাস এবং প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ । এদিকে এদের ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠল আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময়। ‌ ওই গৃহযুদ্ধের সময় আমেরিকার দক্ষিণ রাজ্যগুলি থেকে ল্যাঙ্কাশায়ারের মিলগুলিতে কাঁচা তুলো সরবরাহ ব্যহত হতে লাগল। ফলে বোম্বাইয়ের মিলগুলির কাছে সেই মাল রফতানির সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছিল। ওই সময় এই ব্যবসার রমরমা চরমে পৌঁছয়। ল্যাঙ্কাশায়ারের মিলগুলি তখন ভারতীয় তুলা রফতানিকারকদের যা দাম তার দ্বিগুণ দাম দিতে থাকে।‌ এইভাবে হঠাৎ চরম মুনাফার অর্থ হাতে আসায় সোনা-রূপার আমদানি বাড়ে এবং ফাটকা ব্যবসার দিকে ঝোঁকে।

ওইসময় আবার প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ এশিয়াটিক ব্যাংকিং কর্পোরেশন গড়ে তোলেন যার শেয়ার কেনার জন্য অনেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এমন হয় যে জামশেদজিকে ফার ইস্ট থেকে সরিয়ে ইংল্যান্ডে পাঠানোর কথা ভাবা হয় ব্যবসা দেখাশোনার জন্য। সেই মতো জামশেদজি ১৮৬৪ ডিসেম্বরে জাহাজে ওঠেন যাতে ইংল্যান্ডে গিয়ে তাদের ব্যবসা কটন এজেন্সি খোলা যায়। তিনি সঙ্গে নেন কটন মার্কেটের সিকিউরিটিজ এবং বিল অফ এক্সচেঞ্জ।

তখন জাহাজের যাত্রাপথটি আদৌ আরামদায়ক ছিল না জামশেদজির কাছে। সেই সময় কোল্ডস্টোরেজ না থাকায় জাহাজে জ্যান্ত পশু পাখি থাকত যাত্রীদের সঙ্গে। ফলে তাঁর সকালে ঘুম ভাঙত হাঁস মুরগির ডাক শুনে। ভেড়া ছাগল শুয়োরের উৎপাত সহ্য করতে হত। তবে অভিজ্ঞতা কম থাকলেও জামশেদজি তখন ব্যবসায় তার বয়োজ্যেষ্ঠদের জানিয়েছিলেন এই তুলা রফতানির রমরমা বেশিদিন থাকবে না। রায়চাঁদ ও অন্যান্যদের এ কথা বললেও তাঁরা সেদিন যুবক জামশেদজি কথায় কান দেননি।

এদিকে আবার এই সময় আমেরিকার গৃহযুদ্ধ থিতিয়ে যায়। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে থাকে সে দেশ। ফের আমেরিকা থেকে তুলা রফতানি শুরু হয়। যারফলে ভারত থেকে তুলা রফতানির বাজার ধাক্কা খেতে থাকে। জামসেদজির জাহাজ ইংল্যান্ডে পৌঁছনোর আগেই আমেরিকার গৃহযুদ্ধ থেমে গিয়েছিল। ফলে ব্রিটিশদের রাজধানীতে যখন তিনি পৌছলেন তখন আর তাদের ব্যবসা রমরমা তো নেই বরং গণেশ উল্টেছে। বুঝতে পারলেন তাঁর সঙ্গে থাকা সম্পদগুলি রাতারাতি মূল্যহীন কাগজে পরিণত হয়েছে। আর তিনি হয়েছেন একেবারে নিঃস্ব ।

তবু সেই কঠিন সময় হতাশ না হয়ে বরং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টায় নামলেন জামসেদজি। তার বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়ে ব্যাংক অফ ইংলন্ড এবং রয়্যাল এক্সচেঞ্জ এর কাছে‌ দরবার করলেন। ওই বয়সে একেবারে একক প্রচেষ্টায় আলোচনা করে সময় চাইলেন।‌ বছর ২৫/২৬ এর ওই ভারতীয় যুবকের কথাতে আস্থা রেখে তাকেই লিকুইডেটরের ভার দেওয়া হল প্রতিমাসে ২০ পাউন্ড অর্থের বিনিময় ।

ওই সময় প্রায় বছর চারেক ইংল্যান্ডে ছিলেন জামশেদজি। ধীরে ধীরে ব্যবসার দুর্দিন কাটিয়ে উঠলেন। দেশে ফিরলেন তিনি। এবার আর বাবার তত্ত্বাবধানে নয় কিছুটা যেন স্বাধীনভাবে ব্যবসায়ে নামলেন তিনি। ১৮৬৮ সালে ২১,০০০টাকা পুঁজি নিয়ে ট্রেডিং ফার্ম শুরু করলেন। তারপর এগিয়ে চললেন বাণিজ্য বিস্তারে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।