সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : নারী স্বাধীনতার যুগে সুন্দরী মেয়ে দেখলে কেস, মেয়ের সঙ্গে ঘুরলে কেস। ধরা পড়ে গেলে বৌ বা গার্লফ্রেন্ডের কাছে আরও বড় কেস। যেকোনো মুহূর্তে পুলিশ , পুলিশ খেলা শুরু হয়ে যেতে পারে আপনার সঙ্গে। কেউ দেখবে না ঘাপলা ওদিকেও ছিল। এসব কেসের জন্য পোলা পানেদের মুখগুলো একবার দেখবেন। এই পচা শীতের বাজারে ওদের মুখটা আরও ফাটা পান্তুয়ার মতো হয়ে যায়। কিন্তু এই যবে থেকে মোদীজি নোট পরিবর্তন করেছেন তবে থেকে সত্যি বলছি, ভগবান মুখ তুলে চেয়েছেন। আসলে বাসে এবার পুরুষ জাতি সুরক্ষিত। কারণ এ শহরের বাসেই মিলেছে পুরুষদের সিট সংরক্ষণ ব্যবস্থার ছবি।

আপনি যদি পুরুষ হন তাহলে কলকাতায় বাসে উঠে অবশেষে আপনার জন্য অন্তত একটি সিট ফাঁকা থাকছেই। কারণ অবশ্যই এক বাস মালিকের পুরুষ সিট সংরক্ষণ বুদ্ধি। এরকম কোন নিয়ম কিন্তু সরকার চালু করেনি। আসলে আজ অফিস আসবার পথে একটি বেসরকারি বাসে উঠে দেখতে পেলাম সেই সুন্দর দৃশ্যের। যেখানে বাসের ডান দিকের প্রত্যেকটি সিটের উপরে লেখা “male”, “male” , “male”। সত্যি বলছি দাদা মনটা এক ঘর খুশিতে ভরে গেল।

তারপর, সেই দৃশ্যটা সামনে ভেসে উঠল। একটি ছেলে প্রায় উসেন বোল্টের মতো দৌড়ে বাসটাকে ধরল। বাসে উঠে দেখল সেই দৃশ্য, ডান দিক জুড়ে সিটের উপর লেখা “male” । বিশ্বাস করবেন না ছেলেটির যদি গার্লফ্রেন্ড থাকে। সে যদি তাকে এই মুহূর্তে একখানা চুমুও খায় তাহলেও সে হয়তো এতটা আনন্দ পাবে না, যতটা খুশি হয়েছে সে ওই মুহূর্তে।

বাসে পুরুষদের অরক্ষিত হওয়ার তিন কাহন  

কারন ১ : রোজ লোক ঠেঙিয়ে বাসে উঠে দেখব বাম দিকের সিটের উপরে লেখা লেডিজ। সে থাক, তাতে আপত্তি নেই। রাগটা অন্য জায়গায় হয়,যখন দেখি সিট ফাঁকা পড়ে থাকার পড়েও ঠিক নড়তে নড়তে কোন এক মেয়ে বা মহিলা এসে বসে যান ডান দিকের সিটে। এবার আপনি বলতে যান “দিদি, ওদিকে তো সিট ফাঁকা”!। নিমেষে সুন্দরী ললনা ধরেন প্রলয়ঙ্করীনি রূপ। বলবেন “এটা জেনারেল সিট”।  আপনি কিচ্ছুটি বলতেও পারবেন না। অগত্যা ডান দিকের সব সিট ভর্তি দেখে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। দাঁড়াতে হবে অপেক্ষার লাইনে। মনে মনে আওরাতে হয় “মেরা নাম্বার কাব আয়েগা” বুলি। নয়তোবা দোকানখানি ছোট করে দেখতে হবে কোথাও ভাগ্যের শিকে ছেঁড়ে কিনা।

কারন ২ : আরও একটা পরিস্থতির উদাহরণ দেওয়া যাক। বাসে বেটপকা ভিড়। উঠে দেখলেন সেই মাথা জ্বালানো দৃশ্য। তারপরেই ওই মহিলাই আপনাকে চার কথা শুনিয়ে দেবে যদি একবার বাসটা অসভ্যের মতো লোক ঠাসবার জন্য ব্রেক মারে। কিছুতেই আপনি বোঝাতে পারবেন না “ওরে আমার বোন, বৌ , মেয়ে সব আছে বাড়িতে। অন্তত একখানা মুখ ঝামটানি আপনাকে শুনতেই হবে।

কারন ৩ : এবারের গল্প প্রেমের। আপনি বাসে ঠিক ওই অবস্থাতেই উঠে জায়গা পেলেন না। তার কারণ অবশ্যই প্রেম। দেখবেন সিটে কেমন হাতে হাত রেখে উত্তম-সুচিত্রা, রাজ-নার্গিসরা বসে রয়েছেন। এবারেও আপনি কিছু বলতে পারবেন না । কারণ আপনি জেনারেল হয়ে ভুল করেছেন। মন রাগে কিড়মিড় করে বলে ওঠে তাহলে কি এবার “একটু অন্যরকম সাজবো?”

তবে যাই হোক আজকের বাসের এই দৃশ্য মন ভালো করে দিয়েছে। আশা করি আমাদের কথা এবার থেকে ভেবে দেখবেন  বাকি বাস মালিকরাও। জেনারেলের এই অসংরক্ষন আর সহ্য হচ্ছে না। সংরক্ষণ চাই আমরাও।