বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে টাটা কনসালটেন্সী সার্ভিস (টিসিএস) -এর চুক্তির মধ্যে বিস্তর ত্রুটি। আর সেই ঘটনায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য স্মৃতি কুমার সরকারের আমলে টিসিএসের সঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি হয় বলে জানা গিয়েছে। মূলত, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার খাতা দেখা, ভর্তির অনলাইন ফর্ম পূরণ সহ বিভিন্ন বিষয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করছিল টিসিএস।

যদিও এই সময়কালেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিস্তরই অভিযোগ উঠেছে। দফায় দফায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের খারাপ ফলাফল নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ রাজপথে এসে আছড়ে পড়েছে। দাবী উঠেছে উপাচার্যের পদত্যাগ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও। কিন্তু সে সব কিছুই হয়নি।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টিসিএসের সঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত। কিন্তু গোপনীয়ভাবেই তা ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু তারই মাঝে অতি সম্প্রতি এই চুক্তিতে বিস্তর ত্রুটি তথা অসঙ্গতি চোখে পড়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালন কর্তৃপক্ষ।

আর তারপরেই আজ রবিবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিষ্টার এবং কন্ট্রোলারকে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় কলকাতায় ডেকে পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, টিসিএসের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কিভাবে এখনও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এই চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরই টিসিএস কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এরফলে নতুন করে তীব্র সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনাও দেখা দিতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।

বিশেষ করে ইতিমধ্যেই যে সমস্ত পরীক্ষা হয়েছে, যে সমস্ত পরীক্ষা হতে চলেছে, যে সমস্ত ভর্তির ফর্ম পূরণ করার কাজ শুরু হতে চলেছে – সমস্ত ক্ষেত্রেই রীতিমত একটি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ‌্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে রীতিমত সমস্যার মুখে পড়তে পারেন ছাত্রছাত্রীরা। তবে এই বিষয় নিয়ে মুখ না খুললেও খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিষ্টার রমেন সর, উপাচার্য নিমাই সাহা প্রমুখরা সকলেই স্বীকার করেছেন টিসিএসের সঙ্গে চুক্তিতে কিছু ত্রুটি রয়েছে। সোমবার তাঁরা উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কাছে বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এরপরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।