বর্ধমানঃ পুরসভার কোনো অনুমোদন ছাড়াই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সুবর্ণ জয়ন্তী ভবন তৈরী করেছে বলে অভিযোগ উঠল। বর্ধমান পুরসভা এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ‘লাল চিঠি” ধরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি অটোনমাস বডি। আজ পর্যন্ত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনওরকম নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রে পুরসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি।
বর্ধমানের মহারাজ মহতাব চাঁদের উদ্যোগে কাঞ্চননগরের রাজবাড়ি ছেড়ে বর্ধমান শহরের মধ্যস্থলে প্রায় ১৭৬ বছর আগে ১৮৪০ সাল নাগাদ বর্ধমান রাজবাড়ি তৈরির দায়িত্ব বর্তেছিল ম্যাকিনটস বার্ন কোম্পানির হাতে। ১৯৫৪ সালে জমিদারি প্রথা বিলোপের পর বর্ধমান মহারাজার এই বসতবাড়ি তথা রাজবাড়ি মহতাব মঞ্জিলকেও তুলে দেওয়া হয় সরকারের হাতে। তারপর ১৯৬০ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে রাজবাটিতে অবস্থিত এই রাজবাড়িই হয়ে ওঠে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ঠিকানা। ইতিমধ্যে ২০১৩ সালে বর্ধমানের এই রাজবাড়িকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্য হেরিটেজ কমিশন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই, ওই ভবন থেকে প্রশাসনিক ভবনকে গুটিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেন ম্যাকিনটস বার্ন কোম্পানির সঙ্গে। কারণ, প্রায় ১৭৬ বছর আগে তারাই ইতালীয় স্থাপত্যের বর্ধমান রাজবাড়িটি নির্মাণ করেছিল। আর ১৭৬ বছর পর তাদের হাত ধরেই তৈরী হল প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সুবর্ণ জয়ন্তী ভবন। রাজবাড়ির ওই ভবন থেকে অর্থ দপ্তর ছাড়া বাকি সমস্ত দপ্তরই উঠে আসবে নতুন এই আটতলা ভবনে।

burdwan-university
বৃহস্পতিবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী ভবনটির উদ্বোধন করেছেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। এই ভবনটিকে নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচাৰ্য্যর বিরুদ্ধে রীতিমত তোপ দেগেছেন বর্ধমান পুরসভার পুরপতি ডাক্তার স্বরুপ দত্ত এবং ২৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুশান্ত প্রামাণিক। এদিন সুশান্তবাবু অভিযোগ করেছেন, ২৯ নং ওয়ার্ডের ভাঙা মসজিদ এলাকার ওই জায়গা ছিল জলাভূমি। প্রথমত, তাকে বুজিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ভবন তৈরী করেছে। ওই জলাশয় ছিল ওই এলাকার জলনিকাশীর একমাত্র মাধ্যম। সেই জায়গা ভরাট করে ওই ভবন তৈরী করায় গোটা এলাকার জলনিকাশী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে ভেঙে পড়েছে। গোটা এলাকার জল বার হতে না পেরে একটু বৃষ্টিতেই জলবন্দি হয়ে পড়ছে এলাকার মানুষ। এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন ভাঙা মসজিদ এলাকার বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, এদিন সুশান্ত প্রমাণিক, উপাচাৰ্য্য স্মৃতি কুমার সরকার একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই উপাচাৰ্য্যের আমলেই কোটি কোটি টাকার কাজ হচ্ছে। তা নিয়ে তাদের কাছে বিবিধ অভিযোগ জমা পড়ছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। অথচ বাইরে থেকে তার নিজের পছন্দমত লোক এনে সেই কাজ করানো হচ্ছে। সুশান্ত প্রমাণিক জানিয়েছেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বর্ধমান পুরসভার প্ৰায় ২ কোটি টাকা পাওনা বকেয়া রয়েছে। বারবার জানানো সত্ত্বেও সে ব্যাপারে কোনও কানই দিচ্ছেন না উপাচাৰ্য্য। তাই বাধ্য হয়েই পুরসভার পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এব্যাপারেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লালচিঠি দেওয়া হচ্ছে। এরই পাশাপাশি সুশান্তবাবু জানিয়েছেন, সুবর্ণ জয়ন্তী ভবন নির্মাণের সময়ই ভারী যানবাহন চলাচল করায় নার্সিং কোয়ার্টারের সামনের এই রাস্তা নষ্ট হতে শুরু করে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা জানিয়েছিল, তারাই এই রাস্তা মেরামত করে দেবে। কিন্তু বাস্তবে বৃহস্পতিবার দেখা গেল, রাজ্যপাল এলেন ওই ভাঙা রাস্তা দিয়েই। রাজ্য সরকারের সম্মান নষ্ট করার জন্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই কাজ করেছেন বলে তিনি দাবী করেছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার এই গোল্ডেন জুবিলি ভবন উদ্বোধনে বর্ধমান পুরসভাকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সুশান্তবাবু জানিয়েছেন, তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বর্ধমানের দুই মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এবং মলয় ঘটককেও। তিনি জানিয়েছেন, উপাচাৰ্য্য ঔদ্ধত্যের চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে তিনি খেয়ালখুশি মতই কাজ করছেন। সুশান্তবাবু জানিয়েছেন, উপাচাৰ্য্যের এই বিষয় সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের উপরতলায় জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এদিন এই অনুষ্ঠানে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আসার কথা থাকলেও, তিনি না আসায় জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। এমনকি বিধায়ক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ছাড়া পুরপতি থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদের কেউ ওই অনুষ্ঠানে যাননি। যদিও এব্যাপারেও রবিবাবুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাংশ। খোদ বর্ধমান পুরসভার পুরপতি জানিয়েছেন, তাঁরা উপাচাৰ্য্যের ঔদ্ধত্যের প্রতিবাদ জানাতেই অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন। পুরপতি ডাক্তার স্বরুপ দত্ত জানিয়েছেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে পুরসভার প্রাপ্য তারা এবার আইনানুগ ভাবেই বুঝে নিতে বদ্ধপরিকর। এরই পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, শোনা যাচ্ছে স্মৃতি কুমার সরকার চলে যাচ্ছেন তাড়াতাড়ি। স্বরূপবাবু জানিয়েছেন, উনি চলে গেলেই মঙ্গল, বর্ধমান রাহুমুক্তি হবে। এদিকে, খোদ উপাচাৰ্য্য স্মৃতি কুমার সরকার জানিয়েছেন, ভাঙা মসজিদ এলাকার নিকাশী ব্যবস্থা নিয়ে তাদের কাছেও একটি অভিযোগ এসেছে। বর্ধমানের গোদা এলাকাতেও এই ধরণের সমস্যা মেটাতে বড় ড্রেন করে দেওয়া হয়েছে। এখানেও তারা বড় ড্রেন তৈরী করে দেবেন। অন্যদিকে, রাস্তা মেরামতের কাজ করার দায়িত্ব পুরসভার। তাদের রাস্তা মেরামতির জন্য জানানোও হয়েছিল। কিন্তু কেন তার করেননি সেটা তারাই জানেন। উপাচার্য জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে প্রথা মেনেই তারা পুরপিতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবকুমার পাঁজা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় স্বশাসিত সংস্থা হওয়ায় কোনও নির্মাণের ক্ষেত্রেই তাদের পুরসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়না।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দপ্তরগুলি নতুন এই ভবনে চলে আসার পর রাজবাড়ির ওই অংশকে পর্যটন দপ্তর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের দল রাজবাড়ি ঘুরেও গিয়েছেন। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে রাজবাড়িকে আকর্ষণীয় করে তুলতে গড়া হবে সংগ্রহশালাও।
এদিন নতুন ভবনের উদ্বোধনের পাশাপাশি নবরূপে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং একটি ফটো অ্যালবামও রাজ্যপাল উদ্বোধন করেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।