ফাইল ছবি

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান)ঃ সেই খাগড়াগড় যা ভারতের সর্বত্র পরিচিতি একটি বিস্ফোরণের কারণে। জামাত উল মুজাহিদিনের (জেএমবি) ঘাঁটি, বর্ধমান শহরের এই উপকণ্ঠের ডেরা থেকে বাংলাদেশের মাটিতে নাশকতা চালানোর ছক করা হচ্ছিল। টার্গেট ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিনেমার স্টাইলে বর্ধমান শহরের খাগড়াগড় মোড়ে ঘটেছে প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বোমার ভয় ধরিয়ে তোলা আদায়ের ঘটনা।

খাগড়াগড় মোড় থেকে মাত্র অল্প দূরে একটি দোকানের সামনে বোমা রেখে ৫ লক্ষ তোলা চাইল তোলাবাজরা। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, সোমবার রাত্রি ন’টা নাগাদ বর্ধমান থানার খাগড়াগড় আর কেষ্টপুরের মাঝে একটি ইলেকট্রিকের দোকানের সামনে দাঁড়ায় বাইক আরোহী দুই দুষ্কৃতী। দোকানের সামনে একটি তাজা বোমা রেখে দিয়ে পালায় তারা। পরে ফোন করে দোকান মালিককে হুমকি দিয়ে বলা হয়, এটা ট্রেলার দেখালাম। পাঁচ লাখ টাকা না দিয়ে গেলে এবারে বোমা ফাটবে।

দোকান মালিক কাজল মল্লিকের বাড়ি বর্ধমান শহরের রসিকপুর এলাকায়। তিনি জানিয়েছেন, ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় হিন্দিতে। কিছু পরেই ছেলে সজল ফোন করে। সে জানায় দোকানের সামনে বোমা ফেলা হয়েছে। এরপর আবার ফোন আসে। সেই নম্বর থেকে ফোন করে হিন্দিতে বলা হয়, এটা ট্রেলার ছিল। পাঁচ লাখ টাকা না দিলে দোকান বোমা মেরে উড়িয়ে দেব। আতঙ্কিত কাজলবাবু বিষয়টি পুলিশকে জানান। কাজলবাবুর দোকান থেকে খাগড়াগড়ের দূরত্ব ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিটার।

সোমবার রাত্রে খাগড়াগড়ে বোমা উদ্ধার হয়েছে – এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর জুড়ে। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণের আতঙ্ক ফের ফিরে আসে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে হাজির হন বর্ধমান থানার আইসি সহ ডিএসপি হেড কোয়ার্টার শৌভিক পাত্র। শৌভিকবাবু জানিয়েছেন, তদন্তও শুরু হয়েছে। দোকানের সামনে বোমা রেখে ৫ লক্ষ টাকার তোলাবাজির হুমকি দেবার ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এলাকায় আসা যাওয়ার প্রত্যেকের গতিবিধি বিশ্লেষণ।