প্রসেনজিৎ চৌধুরী, বর্ধমান ( পূর্ব বর্ধমান) : রাতভর ভয়ার্ত পরিবেশ। আর সকাল থেকেই আকাশের কালো চেহারা ও শীতের দাপট। এর মাঝে আশঙ্কা, বর্ধমান স্টেশনের ভেঙে পড়া অংশ ফের ভাঙতে পারে। কারণ হিসেবে উঠে আসছে, ধস নামার ঝাঁকুনিতে পুরো হেরিটেজ ভবনটির গাঁথনি দূর্বল হয়েছে। ফলে ভাঙা অংশের রাবিশ ও চাঙড় সরিয়ে নেওয়ার সময় নতুন করে বাকি অংশেও ধস নামার সম্ভাবনা বেশি।

শনিবার রাতের ভয়াবহ পরিস্থিতি পার করে রবিবার সকালেও আতঙ্কটা ছড়িয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। যদিও রেল ও পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে দুর্ঘটনাস্থলের কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। স্টেশনের সামনের অংশ ঘিরে রেখে ভেঙে পড়া পুরনো গাড়িবারান্দার বাকি অংশ খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আর যাত্রীরা স্টেশনের বাইরে নতুন টিকিট কাউন্টারের সামনে ভয় নিয়ে নিজ গন্তব্যের টিকিট কাটতে যাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে হেরিটেজ ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও।

শতাব্দী পুরনো বর্ধমান জংশন স্টেশনের গাড়িবারান্দা ধসে পড়ার মুহূর্তটি ভেবে শিউরে যাচ্ছেন সবাই। স্টেশনের বাইরে দিক অর্থাৎ বর্ধমান শহরের প্রবেশের মুখটিতে সবসময় ভিড়। সামনে দিয়েই চলে গিয়েছে উড়াল সেতু । এই সেতু উদ্বোধন ঘিরে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত দেখা গিয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, ফ্লাইওভার তৈরির জন্য় খোঁড়াখুঁড়ির ভাইব্রেশন ( কম্পন) কি পুরনো ভবনটি সইতে পারল না ? দুর্ঘটনার পর থেকে স্টেশনের ভিতরে যাত্রী চলাচল প্রবলভাবে নিয়ন্ত্রিত। প্রচুর আরপিএফ, জিআরপি কর্মী মোতায়েন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। স্টেশনের ভিতর ফুট ব্রিজ পেরিয়ে বাইরে আসার রাস্তা সাময়িক বন্ধ।