প্রসেনজিৎ চৌধুরী, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান): হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ার ছবিটা যেমন গোটা দেশ জুড়ে ছড়িয়েছে, তেমনই উঠে আসছে বর্ধমান জংশনের এই বহু পুরনো হাতে আঁকা ছবি। যে অংশটি ভেঙেছে তার স্মৃতি হয়েই থাকল দেড়শ বছরের পুরনো ছবিতে।

ভারতে তখন রেল বিপ্লব শুরু হয়েছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেবরা বুঝে নিয়েছেন বিশাল ভারতে দ্রুত যাতায়াতের জন্য কু ঝিক ঝিক ট্রেনই প্রধান ভরসা। ভাবনাকে কাজে পরিণত করতে জুড়ি নেই ইউরোপিয়ানদের। ফলে উনিশ শতকের মাঝখানেই গড়গড়িয়ে চলতে শুরু করল ট্রেনের চাকা।

নানা কাঠখড় পুড়িয়ে বম্বের বরি বন্দর থেকে থেকে থানে পর্যন্ত সেই যাত্রীবাহী ট্রেন যাত্রা ছিল পরবর্তী সময়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্র। এই ঘটনা ১৮৫৩ সালের।

দু’বছরের মাথায় বর্ধমানের ধার ঘেঁসে কয়লাভূমি রানিগঞ্জের দিকে হুড়হুড়িয়ে ট্রেন চলাচলের শুরু। সেই সময়েই তৈরি বর্ধমান স্টেশন। ঐতিহাসিক তথ্যে মিলছে, বর্ধমান স্টেশন তৈরি সম্পূর্ন হয় ১৮৫৫ সালের কোনও এক সময়ে।

সেই হিসেবে দেড়শ বছর অতিক্রান্ত ভারতীয় রেলের ইতিহাসে বর্ধমান স্টেশনটি প্রথম প্রজন্ম বলেই ধরা হয়। স্টেশন তৈরির সময়ে আঁকা ছবিতে ধরা রয়েছে সেই সব মুহূর্ত। ট্রেন কী বস্ত দেখতে আসা সাধারণের ভিড় ও হাতি নিয়ে কাজ পরিচালনা বন্দি হয়েছে ক্যানভাসে।

দেড়শ বছরের পুরনো এই ছবিতে দেখা যার, দূরে বর্ধমান স্টেশন। আর তার খিলান ও সেই গাড়ি বারান্দা। একুশ শতকের তৃতীয় দশকের শুরতে ভেঙে পড়ল সেই গাড়ি বারান্দা।

শনিবার সেই দুর্ঘটনার পর থেকে বর্ধমান জংশনের একাংশ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ভবনটির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ণের কাজে গাফিলতিই দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইতিহাসবিদরা আফশোস করছেন। তাঁদের নিরিখে এটা অপুরণীয় ক্ষতি। উঠছে হেরিটেজ রক্ষায় রেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।