সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান: নিয়ম ভেঙে ক্রাইম কনফারেন্সে যোগ দেওয়ায় বর্ধমান আদালতের জেলা বিচারক গৌতম সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের চিফ জাস্টিসের কাছে লিখিত অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশন। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা জানিয়েছেন, পুলিশের ক্রাইম কনফারেন্সে সাধারণত জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন মামলাগুলি কিভাবে সাজানো হবে তা নিয়েই পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। সেখানে জেলা বিচারক কর্তা এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তাই জেলা বিচারকের ওখানে উপস্থিত থাকা আইন অনুযায়ী এবং প্রোটোকল বিরোধীও। ক্ষুব্ধ সদনবাবু জানিয়েছেন, বর্তমানে বহু মামলারই সাজা হয় না। বহু মামলায় মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়। সেখানে জেলা বিচারক থাকা কখনই কাম্য নয়। সদনবাবু আরও জানিয়েছেন, এদিন তিনি ফোন মারফৎ জানতে পারেন জেলা বিচারক পুলিশের ক্রাইম কনফারেন্সে গেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি নিজে পুলিশ অফিসে যান এবং এর সত্যতা দেখতে পান। শুধু সদন তা-ই নয় এদিন এই ঘটনায় এক ঝাঁক আইনজীবী হাজির হন পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে। কার্যত তাঁদের সামনেই জেলা বিচারক ক্রাইম কনফারেন্স থেকে বেড়িয়ে নিজে গাড়িতে ওঠেন। আইনজীবী বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, জেলা বিচারক জেলা আদালতে মনিটরিং কমিটির বৈঠক করেন। এই মনিটরিং কমিটির বৈঠক হয় জেলা বিচারকের তত্ত্বাবধানেই। সেখানে পুলিশ কর্তা সহ  জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা হাজির হন। তাই জেলা বিচারক পুলিশের ক্রাইম কনফারেন্সে যাওয়া সম্পূর্ণ প্রটোকল বিরোধী এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি অবমাননাও। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণত কোনও জুডিসিয়াল অফিসার তথা বিচারকরা পুলিশি এলাকায় যেতে পারেন না। কোনও কারণে তা যেতে হলে হাইকোর্টের রেজিস্টারের অনুমোদন নিয়েই যেতে হয়। তবে ক্রাইম কনফারেন্সের মত বিষয়ে কখনই তিনি যেতে পারেন। হাইকোর্টের রেজিস্টারের অনুমতি নিয়ে সেমিনারে অংশ নিতে পারেন। আইনজীবী কমল তা জানিয়েছেন, বিচারক একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তাই জেলা বিচারকের এই ক্রাইম কনফারেন্সে যোগ দেওয়ায় বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়। বিশ্বজিৎবাবু জানিয়েছেন, শুক্রবার এই ঘটনায় বার অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি বৈঠকও ডাকা হয়েছে। ওইদিন আদালতে এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হবে। জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকের পরই এই বিষয় সম্পর্কে হাইকোর্টের চিফ জাস্টিসের কাছে প্রতিবাদপত্র পাঠানো হবে।