অযোধ্যা : সারা মুখে বুলেটের ক্ষত। বুলেটের অংশ লেগে ডান চোখ হারিয়েছে দৃষ্টি শক্তি। তবু প্রতীক্ষা রাম মন্দিরের। তবে করসেবক সুধীর নাগ চাইছেন রাম মন্দির তৈরি হয়ে গেলে তবেই এই প্রতীক্ষার শেষ হবে। তার আগে নয়। তাই বুধবারের ভূমি পুজো নিয়ে খুব বেশি উৎসাহ নেই তাঁর।

১৯৯০ সাল, করসেবক হিসেবে রাম মন্দির আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন সুধীর নাগ। বয়স তখন মাত্র ২১। অযোধ্যায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের নির্দেশে কর সেবরকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। সেই স্মৃতি উসকে সুধীর বলেন .৩০৩ রাইফেলের বুলেট এসে লেগেছিল ডান চোখের ঠিক নীচে। তৎক্ষণাত ডান চোখের দৃষ্টি চলে গিয়েছিল।

কোনও রকমে প্রাণে বেঁচেছিলেন তিনি। তবে সেই ক্ষত আজও মুখে রয়ে গিয়েছে, সাথে চলে গিয়েছে ডান চোখের দৃষ্টি। বাম চোখেও এখন দৃষ্টি ক্ষীণ। তবে প্রতীক্ষা ছাড়েননি। রাম মন্দির তৈরি প্রতীক্ষা বুকে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন সুধীর নাগ। তবে তাঁর প্রতীক্ষা ভূমি পুজোর জন্য নয়, চোখের সামনে আস্ত রাম মন্দির দেখার। তাই ৫ই অগাষ্টই প্রতীক্ষা শেষ হচ্ছে না তাঁর।

সুধীন বাগ বলেন রাম জন্মভূমিতে তখনই যাবেন যখন গোটা মন্দির তৈরি হয়ে যাবে। তার আগে নয়। উল্লেখ্য রাম মন্দিরের জন্য দৃষ্টি হারালেও ভূমি পুজোয় আমন্ত্রিত নন তিনি। এখনও রাম মন্দির তাঁর কাছে একটা প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতি পালনে জীবন ভর অপেক্ষা করতে রাজি তিনি।

তবে তৎকালীন মুলায়ম সিং সরকারের ওপর কোনও ক্ষোভ নেই এখন তাঁর। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা ২৮জন করসেবকের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ তিনি। উল্লেখ্য ১৯৮৪-তে রাম মন্দির গড়ার দাবি নিয়ে হিন্দুদের একটি কমিটি তৈরি হয়। তিন বছর বাদে একটি জেলা আদালত নির্দেশ দেয়, যাতে ওই বিতর্কিত এলাকা হিন্দুদের প্রার্থনার জন্য খুলে দেওয়া হয়। মুসলিমরা তৈরি করে বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি

এরপর ১৯৮৯ তে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ওই স্থানে। ১৯৯০ তে রাম মন্দির তৈরির সমর্থনে রথযাত্রা করেন এল কে আদবানী। ১৯৯২ -তে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেয় কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। দেশ জুড়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ১০ দিন বাদে তৈরি হয় তদন্ত কমিটি। ১৭ বছর বাদে ২০০৯ সালে সেই কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে আদবানী, বাজপেয়ী সহ ১৭ জনের নাম ছিল।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা