ঢাকাঃ  ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে এখন যে পরিকাঠামো রয়েছে, তা ব্যবহার করেই দ্রুতগতির ট্রেন চালানো সম্ভব। এমনটাই জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ঢাকায় এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি মনমোহন পারকাশের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এমনটাই তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এডিবি আধিকারিকরা শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়েছিলেন।

মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “এডিবির প্রতিনিধি মনমোহন পারকাশ আমাকে জানিয়েছেন যে ঢাকা-চট্টগ্রামের বিদ্যমান রেললাইনেই দ্রুত গতির রেল পরিবহন পরিচালনা করা সম্ভব।” ট্রেনে এখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম থেকে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা লাগলেও হাইস্পিড ট্রেন চালু করে এই সময় দুই ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে চায় সরকার। হাইস্পিড রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং নকশা তৈরির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

মন্ত্রী বলেন, “বিদ্যমান ট্র্যাকের উপরেই দ্রুতগতির সার্ভিস দেওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না। এডিবি জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের একটা সমীক্ষাও করা আছে।” এডিবি এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছি জানিয়ে মান্নান বলেন, তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। এডিবি বাংলাদেশে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমি তাকে বলেছি, কোন কোন পয়েন্টে আপনাদের গতির প্রয়োজন তা আমাকে জানাবেন”। মন্ত্রী বলেন, “তারা চান এদেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা চান, আমি নিজেও এটা চাই।”

এডিবি তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে তারা বাংলাদেশকে ৫৮০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত এডিবি থেকে ঋণ নিয়েছে ৪৬০ কোটি ডলার। মনমোহন পারকাশের পাশাপাশি ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার আদর্শ সোয়াইকাও বৃহস্পতিবার পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। মান্নান বলেন, “তারাও আমাকে ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ানোর কথা বলেছেন।”