তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র দাপটে বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত বাঁকুড়ার জয়পুর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশের ধানের জমি। ঝোড়ো হাওয়া সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিতে পাকা ধান জমিতে নুইয়ে পড়েছে। বাড়িতে তুলে আনা ধানও নষ্ট হতে বসেছে। চরম দুশ্চিন্তায় ওই সব এলাকার চাষীরা।

শনিবার দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলার বেশীরভাগ অংশে ‘বুলবুল’ সেভাবে থাবা বসাতে পারেনি। দক্ষিণ বাঁকুড়া সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সকাল থেকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে থাকলেও বৃষ্টির দেখা নেই। তবে জয়পুর এলাকায় প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় বিশাল পরিমান আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন কৃষিজীবীরা। এদিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল পাকা ধানের জমিতে জল জমে আছে। ঝড়ের দাপটে পাকা ধান নুইয়ে পড়েছে জমিতে। জমি থেকে অতিরিক্ত জল বের করার কাজ করছেন কৃষকরা।

জয়পুরের শুকজোড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজীব প্রসাদ কুণ্ডু বলেন, বাদশাভোগ ও আম্রপালি জাতের মিলিয়ে মোট ছ’বিঘা জমিতে ধান চাষ ছিল। বাদশাভোগ ধানের দাম এই মুহূর্তে খুব বেশী। বৃষ্টি যেভাবে শুরু হয়েছে তা চলতে থাকলে ভালোরকম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন তাদের হতে হবে। আম্রপালি ধানে এই মুহূর্তে ধানে চাল গজায়নি এখনো। অতিবৃষ্টি ফলে ওই ধান চাষেও ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকছে। এই অবস্থায় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের পাশে যাতে দাঁড়ায় তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

ধানের জমিতে জমে থাকা জল কেটে বার করার কাজ করার ফাঁকে স্বপন চৌধুরী নামে এক চাষী বলেন, অতি বৃষ্টিতে ধানের ফলন অনেক কমে যাবে। জমির ধান জমিতে থাকাকালীনই অঙ্কুর হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই অবস্থায় কাকে জানাবেন আর কিভাবে সারা বছরের সংসার খরচ চলবে ভেবে উঠতে পারছেননা বলে তিনি জানান।