কলকাতা:  আর মাত্র কিছুক্ষণের অপেক্ষা। রাত আটটার পর থেকেই কার্যত বুলবুলের প্রভাব পড়তে শুরু করবে। তখন ঘন্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে ইতিমধ্যে পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস। আর ঘন্টায় ৭০ কিমি বেগে কলকাতায় ঝড় বয়ে গেলে কি ঘটতে পারে তা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরে। সন্ধ্যা নামতে ফাঁকা রাস্তাঘাট। বন্ধ সমস্ত বাস সহ অন্যান্য পরিষেবা। কিন্তু এরই মধ্যে শহরে ভেঙে পড়ল গাছ। আর এই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বালিগঞ্জের সিসিএফসি ক্লাবে। মৃত ব্যক্তির নাম মহম্মদ সোহেল। ক্লাবের গেট দিয়ে ঢোকার মুহূর্তেই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর উপরে ভেঙে পড়ে গাছের ডালটি। ঘটনাস্থলেই সোহেলের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় সেখানে। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী।

জানা গিয়েছে, সিসিএফসি ক্লাবে রাঁধুনির কাজ করতেন সোহেল। প্রত্যেকদিনের মতো এদিনও সোহেল ক্লাবে গিয়েছিলেন কাজের জন্যে। কিন্তু সেখানে ঢুকতেই যেভাবে তাঁর উপর গাছ ভেঙে পড়বে তা বোধহয় কল্পনাতেও ভাবতে পারেননি। ঘটনায় শোকের ছায়া।

উল্লেখ্য, গতি বাড়িয়ে প্রচন্ড গতিতে ধেয়ে আসছে সাইক্লোন বুলবুল। সাগরদ্বীপ থেকে আর মাত্র ৮৫ কিমি দূরে সাইক্লোন বুলবুল। ফলে আর ঘন্টাখানেকের মধ্যেই সেটি বঙ্গে আছড়ে পড়তে পারে বলে মনে করছে আলিপুর হাওয়া অফিস। ইতিমধ্যে উপকূল এলাকা থেকে ৮৪ হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সন্ধ্যে ৬টা থেকে উপকূলে হাওয়ার দাপট বাড়বে। ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। জানা যাচ্ছে, পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে নবান্নে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রশাসনিক ভবনে খোলা কন্ট্রোল রুমে এই মুহূর্তে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বসেই গোটা পরিস্থিতির উপর তিনি নজর রাখবেন বলে জানা যাচ্ছে।

শুধু কন্ট্রোল রুমে বসে থাকা নয়, ইতিমধ্যে রাজ্যবাসীকে বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে লিখেছেন, কোনওভাবে আতঙ্কিত হবেন না। শান্ত থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন। প্রশাসন বিপর্যয় মোকাবিলায় একেবারে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। মমতা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে আরও লিখেছেন, রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ, অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।