খুলনা: আগেভাগেই জারি হয়েছিল সর্বচ্চো মহা বিপদ সতর্কতা-১০, তার পরেও অনেককে আশ্রয় শিবিরে নেওয়া যায়নি৷ এদিকে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় বুলবুল নির্ধারিত সময়েই প্রবল গতিবেগ নিয়ে হামলা চালিয়েছে বাংলাদেশের উপকূলে৷ এর জেরে লণ্ডভণ্ড ভারত সীমান্ত লাগোয়া সাতক্ষীরা৷

খবর আসছে, সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪পরগনা জেলার বহু অংশে জনজীবন বিপর্যস্ত৷ বুলবুল আপাতত তার শক্তি হারিয়েছে৷ সেটি এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত৷ উপকূল এলাকায় হচ্ছে প্রবল বর্ষণ৷

শনিবার রাত থেকে যে তাণ্ডব চালিয়েছে বুলবুল তার জেরে সাতক্ষীরার উপকূল এলাকা শ্যামনগর উপজেলায় প্রায় লণ্ডভণ্ড। বিধ্বস্ত হ‌য়ে‌ছে সহস্রাধিক ঘরবা‌ড়ি। রবিবার ভোররাত থেকে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয়েছে ঝড়ো হাওয়া। রাস্তাঘাটে গাছপালা উপড়ে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন৷ উপকূলে ঝড়ো বাতাস বইছে। বহু মানুষ গৃহহীন৷


বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বুলবুল এখন স্থল নিম্নচাপ হিসাবে অবস্থান করছে বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও খুলনা এলাকায়। ১০০ কিলোমিটার বেগের ঝড় এসে একেবারে ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যাবে তেমন আশঙ্কা আর নেই। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা লাগতে পারে।

শনিবার ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার থেকে ১২৫ কিলোমিটার বেগের শক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগর দ্বীপ উপকূলে আঘাত হানে এই ঘূর্ণিঝড়। রবিবার ভোরে সুন্দরবনের উপর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম করে বুলবুল৷ এরপর বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছায়। এরপর আরও শক্তি হারিয়ে গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে৷

শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় সবচেয়ে বেশি ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে বাতাসের গতিবেগ ছিল সর্বোচ্চ ৮১ কিলোমিটার।

বুলবুলের প্রভাবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।